ঋণখেলাপি সংস্কৃতি থেকে আমরা বের হয়েছি: অর্থমন্ত্রী

 
 
 
 
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আমরা ঋণ খেলাপি সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসেছি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরে দেশে ঋণ খেলাপির পরিমাণ ছিল মোট ঋণের ৪০ শতাংশ। এখন তা ১১ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমানে খেলাপি ঋণ সহনীয় মাত্রায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে মোট ঋণের ১০ থেকে ১১ শতাংশ খেলাপি। এটা মোটামুটি সন্তোষজনক। তবে এটি ৮ শতাংশ নেমে এলে ভালো। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিজিএমইএর মধ্যে এক সমঝোতা চুক্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, বিজিএমইএ সভাপতি মো. আতিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ৮০-এর দশকে ঋণ পেতে গ্রাহকদের অনেক কষ্ট করতে হতো, এ জন্য তারা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করত না। কিন্তু এখন সে অবস্থা নেই। এখন উদ্যোক্তা ঋণের টাকা ফেরত দিয়ে দেন। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহায়ণ তহবিল থেকে বিজিএমইএ এবং এর সদস্যরা মাত্র ২ শতাংশ সুদে ঋণ-ইক্যুইটি ৬০:৪০ অনুপাতে ঋণ পাবেন। গৃহায়ণ তহবিল তাদের কার্যক্রম প্রসারে ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০০ কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ওই তহবিল ছাড় করার বিষয়ে বিবেচনা করা হবে। এ সময় অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার বিরাট অংশ আবাসন-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই তহবিলের মাধ্যমে গৃহনির্মাণে ঋণ-সুবিধা দেয়া হয়। এই তহবিলে বিজিএমইএর অংশগ্রহণ নতুন মাত্রা যোগ করবে।
উপস্থিতদের উদ্যেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখানে যারা আছেন কারো বয়স আমার কর্মজীবন থেকে বেশি নয়। ফলে আমি একটু আবোলতাবোল বলতে পারি। তাতে আপনারা কিছু মনে করবেন না।
এর আগে বিশেষ অতিথির ভাষণে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, ১৯৯৮ সালে সরকারের ১৬১ কোটি টাকার অনুদান নিয়ে এই তহবিলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই তহবিলের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৬০ হাজার গৃহনির্মাণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ২১টি কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ। এর পরও আমাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। বাংলাদেশের ২২টি প্রতিষ্ঠান ভারতের লিলিপুট থেকে অর্থ পায়। অথচ তারা পরিশোধ করেনি। এ সময় তিনি ১৪৫টি রুগ্ন প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।