রংপুরে যুবলীগ নেতাকে খুনের প্রতিবাদে ভাংচুর, সড়ক অবরোধ

রংপুরে যুবলীগ নেতা ইমরান আলীকে (৩৫) হত্যার ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার ব্যাপক ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসী হামলায় সাংবাদিকসহ আহত হয়েছে ২০ জন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রংপুর বিভাগে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হলেও প্রায় ১২ ঘন্টা পর বিকেল ৫টার দিকে তা ৭২ ঘন্টার জন্য স্থগিত করা হয়। এদিকে বিকেলে নিহত ইমরানের লাশ এলাকায় নিয়ে আসা হলে সেখানে চরম থমথমে অবস্থা বিরাজ করে। সহিংস ঘটনা এড়াতে গোটা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ র্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে। 

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক পিপিএম জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সনাক্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুরো পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মহানগরীর সাতমাথা মাহিগঞ্জের বীরভদ্র বালাটারী এলাকার দুলাল মিয়ার পুত্র ও যুবলীগ মহানগর কমিটির সদস্য, ৩০নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক ইমরান আলী সোমবার গভীর রাতে সাতমাথা এলাকায় গেলে একদল সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল ভোরে ইমরানের মৃত্যু হয়। ইমরানের মৃত্যু খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রংপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এমএ মজিদ ও তার ভাবী পৌর কাউন্সিলর ফরিদা কালামের বাড়ি, জেলা পিকআপ সমিতি কার্যালয়, শ্রমিক ইউনিয়নের সাতমাথা শাখা কার্যালয় ভাংচুর এবং ৩টি মিনিবাস, ৩টি মোটর সাইকেল ও ১টি প্রাইভেটকারে অগ্নিসংযোগ করে। আগুন নেভাতে   গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও ভাংচুরের শিকার হয়। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সাতমাথা এলাকায় অবরোধ সৃষ্টি করলে লালমনিরহাট-কুড়িগ্রামের সঙ্গে রংপুর ও ঢাকাসহ সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তারা সাংবাদিকদের উপরও হামলা চালায়।