পূর্ব সুন্দরবনে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুর্ধর্ষ বনদস্যু ‘দারোগা বাহিনী’র প্রধান এমদাদুল হক দারোগা (৩৫) ও তার সহযোগী শফিকুল ইসলাম (২৬) নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৫০টি গুলি ও দস্যুদের ব্যবহূত দ্রুতগতিসম্পন্ন একটি ট্রলার উদ্ধার করা হয়েছে। গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে দস্যুদের একটি আস্তানা। দস্যুদের ছোঁড়া গুলিতে মোস্তাফিজ (৩৫) নামে র্যাবের এক সার্জেন্ট আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলাধীন চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের আড়ুয়া বয়া খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দস্যুদের বাড়ি খুলনার রূপসা এলাকায়। দুই দস্যুর মৃতদেহ, অস্ত্র ও গুলি শরণখোলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী র্যাব-৮-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরিদুল আলম মুঠোফোনে জানান, তিনি ২৭ সদস্যবিশিষ্ট র্যাবের একটি দল নিয়ে ৯ নভেম্বর দস্যু দমনে পূর্ব সুন্দরবনে অভিযান শুরু করেন। সোমবার রাত ২টার দিকে তারা শরণখোলা উপজেলাধীন চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের আড়ুয়া বয়া খালে পৌঁছলে দস্যুদের আস্তানার সন্ধান পান। এসময় র্যাব সদস্যরা দস্যুদের আস্তানা ঘিরে ফেলে ওই এলাকা নজরদারিতে রাখে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে র্যাব সদস্যরা মাইকিং করে দস্যুদের আত্মসমর্পণ করতে বলে। এতে কোন সাড়া না দিয়ে সকাল ৬-৫০মিনিটের সময় দস্যুরা তাদের আস্তানা থেকে র্যাবকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় আধাঘন্টা ধরে চলা এ বন্দুকযুদ্ধে উভয়পক্ষের মধ্যে শতাধিক রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়। বন্দুকযুদ্ধের সময় র্যাবের সার্জেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। র্যাবের গুলির মুখে টিকতে না পেরে দস্যুরা আস্তানা ছেড়ে গভীর বনে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে দুই দস্যুর মৃতদেহ, ৩টি এলজি, ৩টি একনলা বন্দুক, ৫টি পাইপগান, ১টি টুটু বোর রাইফেল, ১৫০ তাজা গুলি, ২৫টি গুলির খোসা, ১টি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারসহ মালামাল উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় জেলেরা নিহত এমদাদুল হককে দারোগা বাহিনীর প্রধান ও শফিকুল ওই বাহিনীর সদস্য বলে শনাক্ত করেন।