সাত দফা দাবিতে গতকাল ভোর থেকে সিলেট বিভাগে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হলে যাত্রীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েন। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধানের লক্ষ্যে গতকাল বিকালে সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের নিয়ে সভা আহ্বান করা হয়। বিভাগীয় কমিশনার সাজ্জাদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত ডিআইজি শাখাওয়াত হোসেনসহ চার জেলার পুলিশ সুপার, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। সভায় আলোচনার ভিত্তিতে পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে।
সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগ্রাম কমিটি এ ধর্মঘটের ডাক দেয়। তবে গতকাল সিএসজি চালিত অটোরিকশা ও হালকা যান চলাচল করেছে। এদিকে পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সিলেট থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোন বাস। অন্ত:জেলা বাসও ছেড়ে যায়নি। ফলে সিলেটের সাথে সারাদেশের যাত্রী পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। ধর্মঘটের কারণে যাত্রীরা যার পর নাই দুর্ভোগে পড়েন। অনেকেই স্থানে স্থানে আটকা পড়েছেন। গতকাল অনেকেই টার্মিনালে দিনভর নিরাশ হয়ে বসে থাকেন। রাতে ধর্মঘট স্থগিতের খবর আসলে অনিশ্চয়তা দূর হয়। পরিবহন ধর্মঘটে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন ছিল।
সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ জানায়, সাত দফা দাবিতে গত ২৭ অক্টোবর সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়। এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর পাঁচ নভেম্বর পর্যন্ত দাবি পূরণের জন্য সময় বেধে দেয়া হয়। কিন্তু দাবি পূরণ না হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট আহবান করা হয়।
সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম ফলিক জানান, ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এই ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে।