রাজশাহীতে ১২ বছরের এক মেয়ে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ধর্ষক সিরাজুল ইসলামকে (২৫) যাবজ্জীবন কারাদ্ল ও এক লাখ টাকা জরিমানার রায় দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুর ২টায় রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু সুফিয়ান এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে রায়ে আদালতের বিচারক ওই ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া শিশু দ্লিত আসামি সিরাজুল ইসলামের পিতৃপরিচয় পাবে বলেও আদেশ দেন। দ্লিত সিরাজুল রাজশাহী নগরীর মতিহার থানার বামনশেখর এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে আসামি সিরাজুল কারাগারে রয়েছেন।
জানা গেছে, ২০১১ সালের ২৫ জুন নগরীর মতিহার থানার বামনশেখর এলাকার ১২ বছর বয়সের ওই মেয়ে শিশুকে ধর্ষণ করেন ওই এলাকার সিরাজুল ইসলাম। ধষর্ণের ফলে গর্ভবতী হওয়া মেয়ে শিশুটি ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় পজেটিভ রিপোর্ট আসায় প্রাথমিক চিকিত্সার পর ওই বছরের ১৫ নভেম্বর শিশুটির মা বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এরপর ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সিজারের মাধ্যমে ওই শিশুটির গর্ভস্থ সন্তানের জন্ম হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আদালত বুধবার উপরোক্ত রায় ঘোষণা করেন। মামলার খরচ এবং সহায়তা রামেক হাসপাতালের ওসিসি থেকে দেয়া হয় বলে জানা যায়।
রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন মর্জিনা খাতুন। তাকে সহায়তা করেন রামেক ওসিসি’র আইনজীবী আশুরা খাতুন। রায় ঘোষণার পর আইনজীবিদ্বয় সাংবাদিকদের জানান, ‘আসামি সিরাজুলের জরিমানার ২০ হাজার টাকা পাবেন মা (ধর্ষিত শিশু) এবং বাকি ৮০ হাজার টাকা পাবে তার সন্তান। যেহেতু শিশুটি তার মায়ের কাছেই রয়েছে, সেহেতু অভিভাবক হিসেবে জরিমানার পুরো টাকাই ধর্ষিতা পাবে। এছাড়া আদালতের বিচারক তার রায়ে সন্তানটির পিতৃ পরিচয়ের ক্ষেত্রে দ্লিত সিরাজুল ইসলামের নাম ব্যবহার এবং তার সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন।