কর্ণফুলী-৫ এর মাস্টারের লাশ উদ্ধার

লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে কর্ণফুলী-৫ লাইটার জাহাজের নিখোঁজ হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে জাহাজের মাস্টার শেখ এনামুল হোসেন মুক্তির (৪৫) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকালে পুলিশ ভোলার মনপুরা উপজেলার সাকোতিয়া এলাকায় মেঘনা নদীর একটি চর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার সকালে কমলনগর থানায় নিয়ে আসলে চাচাতো ভাই সোহেল তার লাশ সনাক্ত করেন। শেখ এনামুল হোসেন মুক্তি নড়াইলের লোহাগাড়া উপজেলার আড়িয়ারা এলাকার শেখ মমিন উদ্দিনের ছেলে।
এর আগে রবিবার গভীর রাতে পুলিশ রামগতি উপজেলার আলেকাজন্ডার সেন্টারখাল মাছ ঘাট এলাকার মেঘনা নদী থেকে জাহাজটির চালক নুর নেওয়াজের (৪০) লাশ উদ্ধার করেন।
এদিকে, ঘটনার ছয় দিন অতিবাহিত হলেও নিখোঁজ অপর পাঁচ জনের এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এরা হচ্ছেনÑ সুকানি নড়াইলের লোহাগাড়া উপজেলার মল্লিকপুর এলাকার শাফিনুর রহমান শাকিল, লস্কর ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টিটু, একই এলাকার শামীম, বাবুর্চি (অজ্ঞাতনামা) ও টিটুর অতিথি (অজ্ঞাতনামা)।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ূন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ময়না তদন্ত শেষে শেখ এনামুল হোসেনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম কাফকো থেকে ৭২০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার নিয়ে এমভি কর্ণফুলী-৫ লাইটার জাহাজটি সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। জাহাজটি রামগতি উপজেলার চরআব্দুল্লাহর এলাকায় পৌঁছানোর পর জাহাজটির সাত শ্রমিক রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। শনিবার সকালে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার বাতিরখাল মাছ ঘাট এরাকায় মেঘনা নদীতে পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় জাহাজটি আটক করে এবং জাহাজের কেবিনে অবরুদ্ধ অবস্থায় দুই লস্কর মাহবুব ও জাহিদুলকে উদ্ধার করে। এর আগে কমলনগরের ডিএস ফলকন এলাকা থেকে জাহাজের গ্রিজার পারভেজকে পুলিশ আটক করে। জাহাজে বোঝাই করা সার ও অন্যান্য মালামাল অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে জাহাজের ডেকের উপর বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় জাহাজের চার্টার মালিক আবদুস সালাম জাহিদ বাদি হয়ে শনিবার রাতে কমলনগর থানায় মামলা করেন।
ঘটনাটি ডাকাতির ঘটনা বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রাম ও মংলা নৌ-বন্দরের শ্রমিকরা নিখোঁজদের উদ্ধারের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করলে বন্দরের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে।