ব্যাটিং স্বর্গে জিম্বাবুয়েরও লড়াকু শুরু



বাংলাদেশের রান পাহাড়ের নিচে চাপা পড়া জিম্বাবুয়ে লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া। আর সেই পথে দলকে বেশ খানিকটা এগিয়ে দিয়েছেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সিকান্দার রাজা ও ওয়ান ডাউনে খেলতে আসা মাসাকাদজা। ব্যাটিং স্বর্গ খ্যাত এই মাঠে আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান চারি শূন্য রানে ফিরলেও রাজা ও মাসাকাদজা অপরাজিত রয়েছেন অর্ধশতাধিক রান করে। স্বাগতিক বোলারদের বেশ সাচ্ছন্দেই মোকাবেলা করেছেন তারা। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে তাদের সংগ্রহ ১১৩/১।

এর আগে শেষ টেস্টের ১ম ইনিংসে ৫০৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে চলমান তৃতীয় টেস্টে বাংলাদেশ ২য় দিনে দেড় সেশনেরও বেশী সময় ব্যাট করে ওই সংগ্রহ দাঁড় করায়। প্রথম দিনে স্বাগতিক দলের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের জোড়া সেঞ্চুরি এবং দ্বিতীয় দিনে বিশ্বসেরা অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসানের ৭১ রানের ঝলমলে ব্যাটিং বাংলাদেশকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক ইনিংসে সর্বাধিক এই রান সংগ্রহে সহায়তা করে।

আগের দিনের ২ উইকেটে ৩০৩ রানের পুঁজি দিয়ে আজ দ্বিতীয় দিনের মতো ১ম ইনিংসের ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ দলের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুমিনুল ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এ সময় হাফ সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৪ রান দূরে ছিলেন ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ে থাকা মুমিনুল হক। আর মাহমুদুল্লাহ ছিলেন ৫ রানে। তবে সকালের উইকেটে বাংলাদেশকে চেপে ধরা জিম্বাবুয়ানরা ঠিকই সফলতা অর্জন করে। ৫০ রানের মাইল ফলকে পৌঁছাতে না দিয়েই পানিয়াঙ্গারা ফিরিয়ে দেন ৪৮ রান করা মুমিনুলকে। দলীয় ৩১২ রানে পতন ঘটে তৃতীয় উইকেটের। এরপর সাকিবের সঙ্গে জুটি বেধে দারুণ ফর্মে থাকা মাহমুদুল্লাহ টাইগার শিবিরকে আরেকটি বড় পার্টনারশিপ গড়ার স্বপ্ন দেখালেও শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেননি তিনিও। ব্যক্তিগত ১৬ রান নিয়েই বিদায় নিতে হয় তাকে। মাসাকাদজার বলে এলবিডাব্লিউর শিকার হন রিয়াদ। ৪র্থ উইকেটে তিনি যখন বিদায় নেন তখন বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৩৯ রান।
এরপর আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসান একপাশ আগলে রেখে ব্যাটিং আগ্রাসন চালালেও খেই হারায় অপর প্রান্তটি। এবার স্বল্প রান নিয়েই বিদায় নিতে হয় বাংলাদেশের হয়ে সর্বাধিক টেস্ট ম্যাচের নেতৃত্ব দেয়া মুশফিকুর রহিম। ব্যক্তিগত ১৫ রানে তিনি মাঠ ছেড়েছেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজার বলে সরাসরি বোল্ড আউট হয়ে। এরপর মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতির সময় সাকিব ৪৫ ও শুভগত হোম ৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।

মধ্যাহ্ন বিরতীর পর সাকিব ও শুভগত হোম ষষ্ঠ উইকেটে জুটিবদ্ধ হয়ে ৫০ রানের একটি মাঝারি মানের সংগ্রহ দাঁড় করালেও ব্যক্তিগত ৭১ রানে সিকান্দার রাজার বলে এরভিনের হাতে ধরা পড়েন সাকিব। এর আগে অবশ্য মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে ২৭ ও মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ৩৯ রানের জুটি গড়ে ছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এরপর তাইজুল এসে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। বিদায় নিয়েছেন এক রান যোগ করেই। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শফিউলও। সিকান্দার রাজার বলে এরভিনের হাতে জমা পড়ার আগে সংগ্রহ করেছেন ১০ রান। শেষ পর্যন্ত রুবেল হোসেন ও জুবায়ের হোসেনের ১০ম উইকেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রানের পার্টনারশিপের সুবাদে ৫০৩ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় টাইগাররা। যা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। জুবায়ের হোসেন ব্যক্তিগত ৫ রানে পানিয়াঙ্গারার বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গেলেও ৪৫ রান নিয়ে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন রুবেল হোসেন।

সফরকারী দলের হয়ে সিকান্দার রাজা সর্বোচ্চ তিনটি এবং পানিয়াঙ্গারা, সিনগি মাসাকাদজা ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজা দুইটি করে উইকেট লাভ করেন। সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

৫০৩ রানের জবাবে খেলতে নেমে ১ উইকেটের বিনিময়ে ১১৩ রান সংগ্রহ করেছে জিম্বাবুয়ে। সিকান্দার রাজা ৫৪ ও মাসাকাদজা ৫১ রানে অপরাজিত রয়েছেন।