শার্শায় পানিতে ডুবে যাওয়া রোধে ক্ষুদ্রযন্ত্র আবিষ্কার

আগুনের পর এবার পানি নিয়ে কাজ করে সফল হয়েছেন যশোরের শার্শার উদ্ভাবক মিজানুর রহমান মিজান। শিশু কিশোরসহ সাঁতার না জানা মানুষের হাওড় বাওড় খাল বিল নদী, পুকুর ও জলাশয়ে ডুবে যাওয়া রোধে ক্ষুদ্র যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন তিনি। পানির স্পর্শ পেলেই বেজে উঠবে যন্ত্রটি। পানিতে ভাসাবে ফাতনা। জানতে পারবে পরিবারের সদস্যরা। ছোট একটি ডিভাইস রক্ষা করতে পারবে তাকে।

সফল এই যন্ত্র আবিষ্কারে খুশি স্থানীয়রা। যন্ত্রটি দেখতে আসছে অনেকে। শিশু কিশোরদের কাজে আসবে যন্ত্রটি। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া দরকার বলে জানান স্থানীয় দেলোয়ারা কাজল, জামসের আলি জাহাঙ্গীর আলম।

মিজান জানান, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে এ পর্যন্ত মোট ৩৮টি সাফল্য সনদ ছাড়াও অসংখ্য ক্রেস্ট ও সাফল্য পুরস্কার পেয়েছেন। মিজানের আবিষ্কৃত দেশীয় প্রযুক্তির মোটরকার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ টু আই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হয়েছে। গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নে ছোট ছোট অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মিজান বলেন, আমার স্বপ্ন দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করা। বর্তমানে  দূষিত বায়ু শোধন যন্ত্র উদ্ভাবনের জন্য কাজ করছি।

‘আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকায় উদ্ভাবন করা যন্ত্রগুলো বাজারজাত করতে পারছি না। কেউ সহযোগিতায় এগিয়ে এলে কাজটি সম্ভব হবে বলে মনে করে সে। মিজানের জন্ম ১৯৭১ সালের ৫ মে। যশোরের শার্শা উপজেলার আমতলা গাতিপাড়া গ্রামে। বাবা আক্কাস আলী ও মা খোদেজা খাতুন কেউ বেঁচে নেই। ৬ ভাই বোনের মধ্যে মিজান পঞ্চম। বর্তমানে শার্শার শ্যামলাগাছি গ্রামে মিজান বসবাস করেন।’

বর্তমানে মিজানের শার্শা উপজেলা বাজারে ‘ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ’ নামে একটি মোটরসাইকেলের গ্যারেজ রয়েছে। মোটর মেকানিক মিজানুর রহমান মিজানের একের পর আবিষ্কার ডিজিটাল কাইচি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিরোধ জ্যাকেট, পরিবেশ সেপটি যন্ত্র, জ্বালানী তেল ছাড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র ব্যায়াম যন্ত্র ২টি মোটরকার আবিস্কারের পর এবার পানিতে ডুবে যাওয়া রোধে একটি যন্ত্র(ডিভাইস) তৈরী করে সফল হয়েছেন তিনি। উদ্ভাবক মিজানুর রহমান বলেন, ‘পানিতে নিভে যায় অনেক জীবন। পরিবারে নামে শোকের ছায়া! এই কষ্ট থেকেই পানিতে ডুবে যাওয়া রোধে আবিস্কার করেছি যন্ত্রটি।’

আরও পড়ুনঃ ফেসবুকে হযরত মোহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে কটুক্তি করায় যুবক গ্রেফতার

ছোট একটি মাদুলের মতো যন্ত্রটি শরীরে বাঁধা থাকলে পানির স্পর্শ পেলেই উচ্চস্বরে বেজে উঠবে। জানতে পারবে পরিবারের সদস্যরাসহ প্রতিবেশীরা। বাঁচানো যাবে শিশুকে। ৩ থেকে ৫শ টাকায় মিলবে যন্ত্রটি। একটি ডিভাইস, একটি ব্যাটারি ও এ্যালার্ম সার্কিট, একটি স্পিকার দিয়ে সূক্ষ্মভাবে তৈরি করা হয় যন্ত্রটি। সরকারি সহযোগিতা পেলে বিশ্বব্যাপী যন্ত্রটি ছড়িয়ে দেওয়ার আশা তার।

ইত্তেফাক/নূহু