ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তার পুরনো মাঠ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আজ মঙ্গলবার লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে ঔজ্জ্বল্য ছড়ানোর চেষ্টা করবেন। পর্তুগাল ও আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচটির সুবাদে মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের মাঠে মুখোমুখি হচ্ছেন বিশ্ব ফুটবলের সেরা দুই খেলোয়াড়।
রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড রোনালদো ও বার্সেলোনা স্ট্রাইকার মেসি এই গ্রহের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেদের প্রমাণের জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সুপার ক্লাসিকোর পর তারা আবারো মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন পর্তুগিজ তারকাটির সাবেক ক্লাবের সবুজ গালিচায়। যদিও রোনালদো ও মেসি এ পর্যন্ত যে ২৭ বার মুখোমুখি হয়েছেন তাতে পর্তুগীজটি সাতবার এবং আর্জেন্টাইনটি ১২বার জিতেছেন। অপর আটটি খেলা ড্রয়ে শেষ হয়।
গুঞ্জরন আছে স্পেনের সেরা দুই দলের এই ফুটবলারদের মধ্যে মাঠের বাইরের সম্পর্কও ভাল নয়। তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক যাই হোক না কেন, দুজনেই এক দশক ধরে নিয়মিত যোগ্যতার নিরিখেই ট্রফি সংগ্রাহকে পরিণত হয়েছেন। সেটা দলগত ও ব্যক্তিগত উভয় বিভাগেই।
মেসি এ পর্যন্ত তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। অপরদিকে রোনালদোর অর্জনের খাতায় এটি আছে কেবল দুবার। অপ্রদিকে মেসি স্পেনে লিগ শিরোপা জিতেছেন ছয়বার। রোনালদো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে তিনবার লিগ জয়ের পাশাপাশি রিয়াল মাদ্রিদে এসে জিতেছেন একবার। দুজনে মিলে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ছয়বার। এটি এমন এক পুরস্কার যা ঠিক করেন কোচ, খেলোয়াড় ও সাংবাদিকরা মিলে। মেসি এই পুরস্কারটি একাই জিতেছেন চারবার। অপরদুইবার রোনালদোর পেছনে দ্বিতীয় স্থানে থেকেছেন।
পর্তুগিজ স্ট্রাইকারটি এ বছর তৃতীয় দফায় ব্যালন ডি’অর জয়ের আশায় আছেন। তিনি যদি মেসি ও বিশ্বকাপ জয়ী জার্মান দলের খেলোয়াড়দের পেছনে ফেলে আরো একবার পুরষ্কারটি জেতেন, তাহলে খুব ক্রীড়ামোদীই দ্বিমত পোষণ করবেন।
কেননা রোনালদো চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত লিগে ১৮ গোল করেছেন। অপরদিকে মেসি তার নিজের মান বিবেচনায় এমন কিছু আহামরি নয়, কেবল সাতটি গোল করেছেন এ পর্যন্ত। যদিও এ বছরের বিশ্বকাপে তাকেই দেয়া হয় সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটি। অপরদিকে ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাই ও মুল প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রোনালদো সর্বকালের হিসেবে সেরা গোলদাতায় পরিণত হন। গেল সপ্তাহে আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে দলকে ১-০ গোলে জিতিয়েই এ নজির গড়েন রোনালদো। সেটি ছিল ইউরোপীয় প্রতিযোগিতাটিতে তার ২৩তম গোল। পর্তুগালের হয়ে ১১৭তম খেলায় ৫৭ গোল করা রোনালদোর আগে সমান ২২ গোলের সুবাদে রেকর্ডটি যৌথভাবে দখলে রেখেছিলেন ডেনমার্কের জন ডাহল টমাসন এবং তুরস্কের হাকান সুকুর।
রোনালদো এ প্রসঙ্গে বলেন,‘আমার যা করার ছিল আমি তাই করেছি। আমি বড় বড় শিরোপা জিতেছি। আমি অন্য রেকর্ডগুলোও ভেঙ্গেছি। এখন আমাকে শান্তভাবে ভোটের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড থেকে ২০০৯ সালে চলে যাওয়ার পর এটি হবে রোনালদোর দ্বিতীয়বারের মতো ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আসা। এর আগে ২০১৩ সালের মার্চে রোনালদোর করা গোলেই তার সাবেক ক্লাবটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ছিটকে গিয়েছিল। কিন্তু এ দফায় প্রীতি ম্যাচটির জন্য টিকেট বিক্রিতে খুব বেশি সাড়া মিলছে না। তার মানে ইউনাইটেড সমর্থকরা এ দফায় তাদের সাবেক তারকাটিকে অতটা মনোযোগ দিচ্ছে না।
তিনি নিজে অবশ্য এমনটা মনে করছেন না। কেননা রোনালদো বলেন,‘ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ফিরে আসাটা বিশেষ কিছু। আমি আশা স্টেডিয়ামটি আমার সাথে থাকবে।’
কার্লোস তেভেজের জন্যও এরকম একটা প্রত্যাবর্তন অপেক্ষা করছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। বর্তমানে জুভেন্তাসের খেলোয়াড় আর্জেন্টাইন তেভেজ এক সময় ম্যানচেস্টার শহরেরই দুই ক্লাব সিটি ও ইউনাইটেডে খেলতেন। তবে ইংল্যান্ডে তার শুরু হয়েছিল ওয়েস্ট হ্যামে। গেল সপ্তাহে আর্জেন্টিনার হয়ে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ২-১ গোলে জেতা প্রীতি ম্যাচটির মধ্য দিয়ে ওয়েস্ট হ্যামের উপটন পার্কে ফেরার পালাটিও শেষ করে রেখেছেন। এএফপি।