যশোরের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতানের ছেলে হুমায়ুন সুলতান সাদাবকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। স্ত্রী ডা. শামারুখ মাহজাবীন কনা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল সোমবার তাকে কারাগার থেকে ধানমন্ডি থানায় নেয়া হয়। এর আগে রবিবার আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডির বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় ডা. শামারুখকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর পর আত্মহত্যা বলে প্রচার চালায় শ্বশুর টিপু সুলতান, শাশুড়ি ডা. জেসমিন আরা ও স্বামী হুমায়ুন সুলতান। খবর পেয়ে নিহতের স্বজন ও সহকর্মীরা হাসপাতালে যান। সে সময় লাশের পাশে শ্বশুর পক্ষের কেউ ছিল না। স্বজন ও সহকর্মীরা ডা. শামারুখের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান।
নিহতের বাবা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম ওই দিনই ধানমন্ডি থানায় হত্যা মামলা করেন। আসামি করা হয়- খান টিপু সুলতান, তার স্ত্রী ডা. জেসমিন আরা ও হুমায়ুন সুলতানকে। বলা হয়- ডা. শামারুখকে তারা পিটিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। তার মেয়েকে তারা নানাভাবে নির্যাতন করে আসছিল। শামারুখ ডাক্তারি পাস করার পর উচ্চ ডিগ্রি ও বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা দেয় তারা।
ধানমন্ডি থানা পুলিশ রাতে হুমায়ুনকে গ্রেফতার করলেও টিপু সুলতান ও ডা. জেসমিনকে গ্রেফতার করেনি। পুত্রবধূ হত্যা মামলায় রবিবার টিপু সুলতান ও ডা. জেসমিন উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার এসআই কাজী শরীফুল ইসলাম বলেন, সোমবার তাকে আদালত থেকে থানায় নেয়া হয়েছে। স্ত্রী হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
যশোরে মানববন্ধন
যশোর অফিস জানায়, ডা. শামারুখ মাহাজাবীন হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে রাজপথে এসে দাঁড়িয়েছেন তার পিতা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, খান টিপু সুলতানের পরিবার তার মেয়েকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় মামলা করায় তিনি হুমকির মুখে রয়েছেন। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে বলা হচ্ছে, ‘তোমার মেয়েরে খেয়েছে, এবার কিন্তু তোমারে খাবে।’ এভাবে ভয় দেখিয়ে আপোষ করতে বলা হচ্ছে।
সোমবার বিকেলে শহরের গাড়িখানা রোডে এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। ডা. সুমীর মৃত্যু রহস্য উদঘাটন করে তার হত্যাকারী সাবেক এমপি খান টিপু সুলতান পরিবারের সকলকে আটক ও ফাঁসির দাবিতে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। সোমবার বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শহরের গাড়িখানা রোডে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে মানবন্ধনে অংশ নেন নিহতের প্রতিবেশি, শিক্ষক, ছাত্র, চিকিত্সক, ব্যবসায়ী, প্রকৌশলী, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীসহ যশোরের সর্বস্তরের মানুষ। মানববন্ধনে বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুনে হত্যাকারীদের আটক ও নারী নির্যাতন বন্ধে সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে নিহত ডা. শামারুখের ভাই শরীফ আহমেদ বলেন, কিছুদিন আগে তার মা মারা গেছেন। আর টিপু সুলতানের পরিবার তার বোনকে হত্যা করেছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বোন হত্যার বিচার দাবি করেছেন।