অনুশীলন ম্যাচেও বিসিবি একাদশের সাথে ৮৮ রানের ব্যবধানে হারল জিম্বাবুয়ে। বিসিবি একাদশেল ছুড়ে দেওয়া ২৮৩ রানের লক্ষে ছুটতে গিয়ে ৪৫.৩ ওভারে ১৯৪ রানে অলআউট হয়েছে সফরকারীরা।
স্পিনারবিহীন বিসিবি একাদশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের খেলাটাও ছিল পেসসহায়ক উইকেটে। আর সেখানে পেসাররাই ৭ উইকেট নিয়ে ধসিয়ে দিয়েছেন জিম্বাবুয়েকে। ব্যাটে জড় তুলে, বল হাতে ত্রাস তৈরি করে প্রত্যাবর্তনের সুর শুনিয়েছেন আবুল হাসান রাজু।
শুরুতে অবশ্য টসে জিতে জিম্বাবুয়ের ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্তটা সঠিক বলেই প্রমাণ করছিলেন জিম্বাবুয়ের দুই বোলার মাদজিভা ও কামুংগোজি। ৫১ রানে তারা তুলে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। এনামুল হক বিজয় ২১ রানের উদ্বোধনী জুটির পর ব্যক্তিগত ১৩ রানে ফিরে আসেন। পরপরই রনি তালুকদারকেও তুলে নেন মাদজিভা। সৌম্য সরকারও ফিরে আসেন ব্যক্তিগত ১৪ রান করে।
এখান থেকে বাংলাদেশের ইনিংসে প্রতিরোধপর্বটা শুরু করেন ক দিন আগেই দল থেকে বাদ পড়া সামসুর রহমান ও ওয়ানডে অভিষেকের আশায় থাকা সাব্বির রহমান। চতুর্থ উইকেটে এই দু জন যোগ করেন ৬০ রান। ৪৩ বলে ২২ রান করে সাব্বির আউট হলে ভাঙে এই জুটি। দলীয় মাত্র ৭ রান পরই হাফ সেঞ্চুরি থেকে ১ রান দূরে আউট হয়ে যান সামসুরও; ৭৭ বলে তিনি ৫টি চারে সাজানো ৪৯ রান করে ফেরেন। নাসির হোসেন ও শুভাগত হোম প্রতিরোধকে পাল্টা আক্রমণে পরিণত করেন। ষষ্ঠ উইকেটে ৮৭ বলে ৯৪ রান যোগ করেন দু জন। নাসির ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়ে ৬২ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো ৬১ এবং শুভাগত ৪৩ বলে ৪টি চারে ৪০ রান করে ফেরেন।
আর ঝড়টা এরপর দেখান আবুল হাসান রাজু ও মুক্তার আলী। এই দুই পেসার। বাংলাদেশের স্কোর বোর্ডকে ফুলিয়ে তোলেন। রাজু মাত্র ১৬ বলে স্রেফ ৪টি ছক্কায় সাজিয়ে ৩৩ রান করে ফেলেন। আর মুক্তার ৭ বলে করেন ১৭ রান। আর এদের এই বীরত্বেই ইনিংসের শেষ বলে অলআউট হওয়ার আগে ২৮২ রান তোলে বিসিবি একাদশ।
বাংলাদেশের শেষের মতো শুরু হয়েছিল জিম্বাবুয়ের। ব্রেন্ডন টেলর ও রেগিস চাকাভা ৪০ রানের একটা উদ্বোধনী জুটি এনে দিয়েছিলেন। মুক্তার ও শহীদ ১৫ রানের ব্যবধানে দুই ওপেনারকে ফেরানোর পর আরও নিরেট একটা জুটি জুরিন সিকান্দার রাজা ও মারুমা। দু জনে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ৭৭ রান। ৪৪ রান করা সিকান্দারকে সাব্বির এবং ৫০ রান করা মারুমাকে সফিউল ফেরান। আর এরপরই আসলে ধ্বসে পড়ে জিম্বাবুয়ের ইনিংস। সফিউল আবুল আসানের তোপে ২ উইকেটে ১৩২ রান থেকে ২২ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে ৭ উইকেটে ১৫৪ রানে পরিণত হয় সফরকারীরা।
একেবারে শেষ দিকে মুতুম্বামি ও সিঙ্গিরাই এসে নয় ও দশ নম্বরে পাল্টা চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি।