ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে রয়েছে জঙ্গীদের বিশাল নেটওয়ার্ক : আদালতে স্বীকারোক্তি ২ হুজির

নারায়ণগঞ্জ ও রাজধানী ঢাকাতে জঙ্গীদের বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানিয়েছেন গ্রেপ্তারকৃত হুজি নেতারা। তারা এও জানিয়েছেন, এ দুটি স্থানে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনাও ছিল।
বুধবার বিকেলে কঠোর গোপনীয়তায় নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম শফিকুল ইসলামের আদালতে নাদিম হোসেন সুজন ও ওমর ফারুক নামের দুইজন হুজি নেতা ওই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন। এ দুইজনের সঙ্গে পুলিশের রিমান্ডে ছিলেন রফিক ও সালাউদ্দিন আহমেদ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ মোসলেম আলী শেখ জানান, হুজি নেতা মাওলানা রফিক আহমেদের অনুসারী নাদিম ও ওমর ফারুক। তারা গুরুত্বপূর্ন কিছু তথ্য দিয়েছে যা আদালত ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহন করেছেন। তাদের দুজনের দেয়া জবানবন্দি যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। এছাড়া মাওলানা রফিক আহমেদ ও সালাউদ্দিন আহম্মেদকে রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের দুজনকে জেলহাজতে প্রেরন করেন।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান সত্যতা স্বীকার করে জানান, ২জন ১৬৪ ধারায় আদালতে দোষ স্বীকার করেছে আর ২জন দোষস্বীকার করেনি। আদালতে শুনানী শেষে তাদের ৪ জনকে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানাযায়, ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকার মৃত সিরাজুল হকের ছেলে মাওলানা রফিক আহমেদ, ঢাকার ওয়ারি এলাকার নাঈম হোসেনের ছেলে নাদিম হোসেন সুজন, একই এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে সালাউদ্দিন আহম্মেদ ও দেলোয়ারের ছেলে ওমর ফারুক। ওমর রাজধানীর প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শ্রেণীর রসায়ন বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। মাওলানা রফিক ফতুল্লার আমতলার একটি মসজিদের ইমাম ও খতিব হলেও সরকার নিষিদ্ধ হরকাতুল জিহাদের সক্রিয় সদস্য হিসেবে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান সংগঠক। তিনি অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করতেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন উৎস ছাড়াও পাকিস্তান থেকে আসতো তাদের অর্থ। নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে ‘বাংলাদেশ জিহাদি গ্রুপ’নামে একটি নতুন জঙ্গি প্লাটফর্ম করতে চেয়েছিল রফিক। এই জঙ্গিরা ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও লতিফ সিদ্দিকীসহ কয়েক রাজনৈতিক ব্যক্তির উপর হামলারও পরিকল্পনা তাদের ছিল।
গত ২৪ অক্টোবর ফতুল্লা ও রাজধানীর ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাওলানা রফিকসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশের একাধিক টিম। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, ডেটোনেটর, একটি সাবস্টেন গান ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। অভিযানে বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির কাজে ব্যবহৃত দুইটি ল্যাবরেটরির সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। এর একটি পুরান ঢাকার ওয়ারীতে ও অপরটি ফতুল্লায়। এসব ল্যাবরেটরি থেকে ৫৫ প্রকারের বিভিন্ন বিস্ফোরক পদার্থ, নানা ধরনের সরঞ্জামাদি, ডেটোনেটর, বোস্টার, মেটালিক, বোমা কন্টেইনার, সুইচ, পিপেট ও ফানেল পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া ডেটোনেটরের এক একটি দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ জন মানুষ হত্যা করা সম্ভব ছিল। ওই অভিযানের পরদিন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগের (দক্ষিন) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজন বিভাগের এসআই রাইসুল বাদি হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।