বুধবার সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত ছাত্রাবাস খুলে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রায় ১০ মাস বন্ধ থাকার পর হলটি খুলে দেওয়া হলো। তবে এই ছাত্রাবাসে সাধারণ কোনো শিক্ষার্থী উঠতে পারেননি প্রথম দিনে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় ছাত্রাবাস এই শাহ আমানত হলটি বিজ্ঞান ও আইন অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ছিল এত দিন ধরে। জানা গেছে, ছাত্রাবাসে ওঠা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের অধিকাংশই এই দুই অনুষদের ছাত্র নন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ওই ছাত্রাবাসে উঠেছেন শাখা ছাত্রলীগের সাতটি পক্ষের নেতা-কর্মীরা। এই সাতটি পক্ষ ছাত্রাবাসের প্রায় ১১৫টি কক্ষ নিজেদের দখলে নিয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি পক্ষ নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অন্য পক্ষটি নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী বলে ক্যাম্পাসে পরিচিত।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় শাহ আমানত ছাত্রাবাস খুলে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর পর থেকে নাছির উদ্দিনের অনুসারীদের পাঁচটি পক্ষের নেতা-কর্মীরা ছাত্রাবাসে ওঠেন। এই পাঁচটি পক্ষ হলো ছাত্রলীগের শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক সংগঠন সিক্সটি নাইন, একাকার, কনকর্ড, এপিটাফ ও বাংলার মুখ। এর মধ্যে সিক্সটি নাইন ১৫টি ও বাকি পাঁচটি পক্ষ ১০টি করে কক্ষ নিয়েছে।
সিএফসি (চুজ ফ্রেন্ডস উয়িথ কেয়ার) ও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ পক্ষের প্রায় ১৭০ জন নেতা-কর্মী ৫০টি রুম নিজেরা থাকার জন্য নিয়েছে বলে জানিয়েছে।
হল দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও কেন্দ্রীয় আসন বরাদ্দ কমিটির সদস্যসচিব সিরাজ উদ দৌল্লাহ বলেন, ‘শাহ আমানত হল খুলে দেওয়া হয়েছে। কক্ষ বরাদ্দ কারা পেয়েছে, সে সম্পর্কে হল কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে।‘
আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী ও সিক্সটি নাইন পক্ষের নেতা আলমগীর টিপু সাংবাদিকদের বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর শাহ আমানত ছাত্রাবাস খুলেছে। ওই ছাত্রাবাসের বৈধ শিক্ষার্থীরাসহ যাঁরা প্রগতিশীল মানসিকতার কিন্তু অন্যান্য ছাত্রাবাসে থাকতে পারছেন না, তাঁরাই ওই ছাত্রাবাসে উঠেছেন।’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি শাহ আমানত ছাত্রাবাসের ভেতরে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে ছাত্রশিবিরের এক নেতা নিহত হন। এর জের ধরে ওই দিনই ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
বরিশালে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ ছাত্রলীগ মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জসিমউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম দেওয়ানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে নগরের সোহেল চত্বরে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে হাতেম আলী কলেজের নেতারা ছাড়াও বরিশাল কলেজ ছাত্রলীগের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে বলা হয়, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ছাত্রত্ব নেই। তাঁরা ছাত্রলীগের নামে বিভিন্ন অপকর্ম করছেন। এক বছর আগে কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এতে সংগঠনের ভাবমূতি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
এ বিষয়ে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জসিমউদ্দিন বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ ভিত্তিহীন।