ছাত্রলীগের সংঘর্ষে শাবিপ্রবি রণক্ষেত্র

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এক ছাত্র নিহত হয়েছে। এসময় ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে প্রক্টরসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ ও অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।

নিহত ছাত্রের নাম সুমন চন্দ্র দাস (২১)। সে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও মহানগর ছাত্রলীগের বিধান গ্রুপের কর্মী। নিহত সুমন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার শ্যামারচর গ্রামের হরিধন দাসের পুত্র বলে জানা গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের পর গ্রামে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনার পর বেলা ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি বৈঠকে বসে। ভিসি অধ্যাপক আমিনুল হক ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এছাড়া গতকাল বিকেল ৪টার মধ্যে ছাত্রদের ও আজ শুক্রবার সকাল ৯টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেয় শাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও এই সময়ে প্রথম বর্ষে ভর্তির কার্যক্রম চলবে। পরে বেলা আড়াইটার দিকে জরুরি সিন্ডিকেট সভা বসে। সভায় ঘটনা তদন্তে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাসকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। 
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ গ্রুপের কর্মীরা আবাসিক হলের দখল নিতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শাহ পরাণ ও দ্বিতীয় ছাত্র হলের অর্ধশতাধিক কক্ষে ভাংচুর চালায়। এসময় তারা প্রতিপক্ষ অঞ্জন-উত্তম গ্রুপের কর্মীদের হল থেকে বের করে দেয়। পরে অঞ্জন-উত্তম গ্রুপকে সহায়তা করতে মহানগর ছাত্রলীগের বিধান গ্রুপের শতাধিক বহিরাগত কর্মী ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে। তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পার্থ গ্রুপের কর্মীদের উপর হামলা চালায়। উভয় গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এসময় উভয় গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রলীগ কর্মী সুমন চন্দ্র দাস, খলিলুর রহমান ও অঞ্জন রায় গুলিবিদ্ধ হন। তাদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার পথে সুমন মারা যান। তাকে মৃত ঘোষণা করেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আব্দুস সালাম। এ সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ কর্মীরা হাসপাতালের দরজা-জানালার গ্লাস ভাংচুর করে। তারা সাংবাদিকদের ফটো তুলতেও বাধা দেয়। সংঘর্ষে আহত অন্য ছাত্রলীগ কর্মীরা হলেন হুসাইন মোহাম্মদ সাগর, আবদুস সালাম মঞ্জু, নজরুল, সেলিম, আহাদ ও মিজান।
এদিকে ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষ চলাকালে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটাছুটি শুরু করে। পরে পুলিশ রাবার বুলেট ও শটগানের গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় পুলিশ অন্তত ৩০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিমাদ্রি শেখর রায়ও গুলিবিদ্ধ হন। তিনি প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।  পুলিশ পাহারায় ক্যাম্পাস ত্যাগ:সংঘর্ষের পর গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। প্রধান গেট বন্ধ থাকলেও বাইরে ও ভিতরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবস্থান নেয়। বেলা আড়াইটার দিকে পুলিশ পাহারায় ছাত্রলীগ কর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি পরিবহন বাসে করে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে দেখা গেছে। গাড়ি দুটি মূল শহরের দিকে না গিয়ে সুনামগঞ্জ সড়ক দিয়ে বাইপাস হয়ে দক্ষিণ সুরমার দিকে চলে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

জালালাবাদ থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পেয়ে তারা ক্যাম্পাসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০০৫ সালে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাটোয়ারী লিটন।