রাবি ভর্তি: কলা অনুষদে অনিয়মের অভিযোগ



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কলা অনুষদের (এ-ইউনিট) ভর্তিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মেধাতালিকায় তাদের অবস্থান প্রথমের দিকে থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে কোনো বিভাগে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের। অথচ মেধাতালিকায় অনেকের অবস্থান তাদের (ভুক্তভোগী) চেয়ে পরে হলেও তাদের ভর্তির সুযোগ দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তারা।

শনিবার ভর্তি কার্যক্রম শুরুর প্রথমদিন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা এসব অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক খন্দকার ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে এবং কোনো মন্তব্য করতেও রাজি হননি। তবে তার পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরে যোগাযোগ করলে জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক ইলিয়াছ হোসেন বলেন, ভর্তির বিষয়ে কলা অনুষদের ডিন অফিস থেকে কিছু জানানো হয়নি। তাই এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারবো না।

ভর্তিচ্ছু মিঠুন আলী জানান, মেধাতালিকায় তার অবস্থান ১৩১তম (রোলনম্বর-১১৯৩০)। তিনি মৌখিক পরীক্ষায় বিভাগ পছন্দের ফরমে বাংলা, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস, ইসলাম শিক্ষা ও দর্শন বিভাগ পছন্দের তালিকায় দেন। কিন্তু পরে ভর্তি হওয়ার জন্য যে তালিকা দেয়া হয়েছে তাতে তার নামই নেই। ফলে তিনি কোনো বিভাগে ভর্তি হতে পারছেন না।
অথচ ডিন অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, মেধাতালিকায় ১৯৩ অবস্থানে থাকা মুমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। শুধু মুমিন নয়, একইভাবে মেধাতালিকায় অনেক পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ভর্তিচ্ছুরা। মেধা তালিকায় সুর্বণা-২৭০, শাহানুর-৩০৬, আলিম-৩২১, শুভজিৎ-৩২৩, মহিবুল-৩৩৮, শিলা-৩৬২, রতন-৩৯০, সূচী-৪১৪, ফয়সাল-৪২৪, সুমন-৪৬১ সৌরভ-৪৭৬ অবস্থানে থেকেও বিভাগ না পাওয়ায় একই অভিযোগ করেন।
তালিকা দেখে জানা যায় এদের সংখ্যা প্রায় শতাধিক। তবে মেধা তালিকায় এমন অনেক শিক্ষার্থীর নাম দেয়া আছে, যাদের অবস্থান অনেক পরে।
ভর্তিচ্ছুদের ভর্তি হওয়ার জন্য দেয়া তালিকায় দেখা গেছে, আরবি বিভাগ পেয়েছেন মেধাতালিকায় ৫৭৬ অবস্থানধারী সেলিম রেজা, ৫৬৬ অবস্থানধারী রিতা খাতুন, ৫২৮ অবস্থানধারী শারাফত জামান, ৫২৩ অবস্থানধারী আসাদুল্লাহ সোহাগ, ভাষা বিভাগ পেয়েছেন ৫০৩ অবস্থানধারী থাকা নমিতা রয়, ৪৬৪ অবস্থাধারী মামুন-অর-রশিদ। অথচ ভুক্তভোগীদের চেয়ে মেধাতালিকায় অবস্থান পরে থাকলেও তারা বিভিন্ন বিভাগ পেয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, মেধাতালিকায় অনেক ভাল অবস্থানে থাকলেও কেন তারা কোনো বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাননি এসব বিষয়ে জানতে ডিন অফিসে যোগাযোগ করা হলে তাদের জানানো হয়েছে, তারা (ভর্তিচ্ছুরা) বিভাগ পছন্দের তালিকায় কম সংখ্যক বিভাগ দেয়ায় তারা কোনো বিভাগ পায়নি। ৩০৬ অবস্থানধারী শাহানুর অভিযোগ করেন, তিনি মৌখিক পরীক্ষায় বিভাগ পছন্দের ফরমে বাংলা, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাসসহ আরও কয়েকটি বিভাগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ভর্তির জন্য যে তালিকায় দেয়া হয়েছে তাতে তার কোনো নাম নেই। তিনি বলেন, এটি একটি জালিয়াতি। জালিয়াতি করে মেধাতালিকায় পেছনে থাকা শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হচ্ছে। মেধাতালিকায় ৩২৩ নম্বর অবস্থানে থাকা শুভজিৎ কুমার সরকার বলেন, মৌখিক পরীক্ষায় তার কাছে বিভাগ পছন্দের ফরম দেয়া হয় নি। মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডে থাকা শিক্ষকরা তার কাছ থেকে শুনে তাঁরা তার পছন্দের বিভাগ নির্বাচিত করেছেন। তার বিভাগ পছন্দের ফরমে শিক্ষকরা চারটি বিভাগ দিয়ে দেন। তিনি আরও বিভাগ পছন্দের ফরমে দিতে চাইলেও শিক্ষকরা তা না দিয়ে বলেন, যে চারটি বিভাগ তুমি পছন্দের ফরমে দিয়েছ, এগুলোর মধ্যেই তুমি যেকোন একটা বিভাগে ভর্তি হতে পারবে। এই বলে তাকে তাড়াহুড়া করে কক্ষ থেকে বের করে দেয়া হয় বলেও জানান শুভজিৎ।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার (২২ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া কলা অনুষদে ভর্তির কার্যক্রম আগামী ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। গত ৯ নভেম্বর কলা অনুষদভূক্ত ‘এ’ ইউনিটের জোড় নম্বরধারী ও ১০ নভেম্বর বিজোর নম্বরধারীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষদে ১ হাজার ২৩টি আসন রয়েছে।