ইবির ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি: আটক ২

 
 
 
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিনেই ডিজিটাল জালিয়াতি ধরা পরেছে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। রবিবার আইন ও শরিয়াহ অনুষদভুক্ত ‘এইচ’ ইউনিটের পরীক্ষা চলাকালে মীর মশাররফ হোসেন ভবন ও ব্যবসায় প্রশাসন ভবনের পরীক্ষার হল থেকে তাদের আটক করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে— রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ধর্মতত্ত্ব অনুষদভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়। ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা শেষে দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত আইন ও শরিয়াহ অনুষদভুক্ত ‘এইচ’ ইউনিটের প্রথম শিফটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পরীক্ষা শুরু হবার আধা ঘণ্টা পর মীর মশাররফ হোসেন ভবনের ১৩৮ নম্বর কক্ষ থেকে ইমরান হোসেন ও ব্যবসায় প্রশাসন ভবনের ৩১৫ নম্বর কক্ষ থেকে নাজমুল হাসান নাহিদ নামের দুইজনকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অসদোপায় অবলম্বনের জন্য হাতেনাতে ধরা হয়। তাদের উভয়েরই মোবাইল ফোনে প্রাপ্ত এসএমএসের (ক্ষুদে বার্তা) প্রশ্ন নাম্বার এবং উত্তরের সাথে প্রশ্নপত্র এবং প্রকৃত উত্তরের মধ্যে সম্পূর্ণ মিল রয়েছে বলে হলপরিদর্শক শিক্ষকগণ নিশ্চিত করেছেন। আটক দুই ছাত্রের মধ্যে ইমরান হোসেন ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা থানার গাড়াগঞ্জ নামক গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। তার ভর্তি  পরীক্ষার রোল নং-০৪৩৪৮। আর নাজমুল হাসান নাহিদ যশোর কোতায়ালি থানার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তার ভর্তি পরীক্ষার রোল নং-০২০৩৯।
হলপরিদর্শকরা জানান— আটক করার পর তাদের ‘এইচ’ ইউনিট সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহুরুল ইসলামের কক্ষে আনা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের মাধ্যমে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
জানা গেছে— পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, হেডফোনসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও শিক্ষার্থীরা কৌশলে পরিদর্শকদের নজর এড়িয়ে এগুলো ব্যবহার করছে। এমনকি মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে শিক্ষার্থীদের শরীর তল্লাশি করা হবে প্রক্টরিয়াল বডির পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।
‘এইচ’ ইউনিট সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘মোবাইলে উত্তর দেখে লেখার ঘটনায় দুইজনকে হাতেনাতে ধরে আমার কাছে আনা হয়। পরে তাদেরকে হলপরিদর্শকদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রক্টরের মাধ্যমে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।’
প্রক্টর প্রফেসর ড. ত ম লোকমান হাকিম বলেন, ‘আটক ছাত্রদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।’
তবে দায়িত্ব না থাকা সত্ত্বেও যে সকল কর্মকর্তা পরীক্ষার হলে ঘোরাঘুরি করে, তাদের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে ড. ত ম লোকমান হাকিম বলেন, ‘তাদের ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিবুল ইসলাম বলেন, ‘আটক ছাত্রদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা আইন-১৯৮০-এর ৮(৯)(খ) ও বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৮৮ নম্বর ধারায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষায় যারা জালিয়াতি ও অনিয়মের আশ্রয় নেবে, তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না। পরীক্ষায় অসুদোপায় অবলম্বনকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স জারি করা হয়েছে। আটক শিক্ষার্থীদের র্যাবের কাছে সোপর্দ করা হবে। এ ঘটনায় ওই দুইজন শিক্ষার্থী ছাড়াও আর কারা জড়িত আছে বা কোনো চক্র জড়িত আছে কি না, তা র্যাবকে খতিয়ে দেখতে বলা হবে।’