দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ যাত্রা

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ যাত্রা
স্পোর্টস রিপোর্টার:
চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তখন মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তবে, তখন সব কিছু ছাপিয়ে দৃষ্টি ছিল বিশ্বকাপের দিকেই। ঠিক তখনই বাংলাদেশের আরেকজন অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বুলেট কথা বলছেন বাংলাদেশের বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়ে।
কি চমকে উঠলেন তো! দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে খেলতে আগামী ২৮ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে বাংলাদেশের দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ক্রিকেট দল। তার আগে গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয় দলটি। দলের অধিনায়ক প্রথম বারের মত বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকে সামনে রেখে বলেন, ‘আমরা প্রথম বারের মত বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি। আমাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো। আশা করি এই আসরে আমরা ভালো ফলাফল করতে পারবো। এ জন্য দেশবাসির দোয়া চাই।’
বাংলাদেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ক্রিকেট যাত্রা শুরু করে ২০০০ সালে। এর পরের চার বছর পর এবার বাংলাদেশ জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দল প্রথম বারের মত অংশ নিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনে অনুষ্ঠিততব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপ ক্রিকেট আসরে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের নিয়ে ওয়ার্ল্ড ব্লাইন্ড ক্রিকেট কাউন্সিলের (ডব্লিউবিসিবি) আয়োজনে এবারের এই বিশ্বকাপ ক্রিকেট আসরে বাংলাদেশ ছাড়াও অংশ গ্রহণ করছে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড ও স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী ২৬ নভেম্বর থেকে নয় ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এই টুর্নামেন্ট।
দলগুলো দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মোকাবেলা করবে বিশ্বকাকে। আগামী ৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ দল গ্রুপ বি-তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ৬০-৭০ মিটার আয়তনের মাঠে ২২গজ পিচে বিশেষ বলে প্রতিটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ৪০ ওভারের। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী সেরা একাদশে বি-১ ক্যাটাগোরীর ক্রিকেটার খেলতে পারবেন ৪ জন। তারা সম্পূর্ন অন্ধ। বি-২ ক্যাটাগোরী থেকে ৩ জন। এই ক্যাটাগরীর খেলোয়াড়রা ৫ মিটার পর্যন্ত অল্প দেখতে পান। এবং বি-৩ ক্যাটাগোরী থেকে খেলতে পারেন ৪ জন। ১৫ মিটার পর্যন্ত আবছা আবছা দেখতে এই ধরণের ক্রিকেটাররা।
ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দল প্রথমবারের মত অংশ গ্রহণ করলেও এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেখা যায় দলটিকে। ২০১২ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেছিল দলটি।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্লাইন্ড ক্রিকেট কাউন্সিলের (বিবিসিবি) পরিচালক প্রশাসন সৈয়দ কামরুল ইসলাম সব প্রস্তুতি শেষ বলেই জানিয়েছেন। একই সাথে যারা বিভিন্ন সয়ম সংস্থাটিকে সহযোগীতা করেছেন তাদেরও বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন, 'যারা আমাদের সাথে আছেন এবং বিভিন্ন সময় আমাদের ব্লাইন্ড ক্রিকেটকে সহযোগিতা করছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশ ব্লাইন্ড ক্রিকেট কাউন্সিলের পক্ষ থেকে।'
প্রথমে আগামী ২৭ তারিখ দেশ ছাড়ার কথা থাকলেও টিকেট না পাওয়ায় একদিন পরে ঢাকা ছাড়বে দলটি। এই প্রসঙ্গে কামরুল ইসলাম বলেন, '২৮ তারিখের টিকেট আমরা পেয়েছি। সেদিন আমরা ঢাকা ছাড়বো। তাতে, আমরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবো না।'