হত্যার দায় স্বীকার করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়া দুই জন গ্রেফতার

অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত ও ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে দাবি করে র্যাবের সাংবাদিক সম্মেলনের একদিন পর পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আরো দুই জনকে গ্রেফতার করেছে। হত্যাকাণ্ডের পরপর ঘটনার দায়ভার স্বীকার করে ফেসবুকে যে পেইজটি আপলোড করা হয়েছিল গ্রেফতারকৃত দুইজন সেটির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছে পুলিশ।

ওইদিন র্যাব দাবি করেছিল- গ্রেফতারকৃতদের কাছে হত্যায় ব্যবহূত চাপাতি, ছুরি ও হাসুয়া পাওয়া গেছে। রাজশাহী পুলিশের দাবি, তারা হত্যায় ব্যবহূত চাপাতি তৈরির সঙ্গে জড়িত কর্মকারকে গ্রেফতার করেছে।
এদিকে র্যাবের হাতে ঢাকায় গ্রেফতারকৃতদের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছে মামলার তদন্তকারী রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কর্তৃপক্ষ। গতকাল সোমবার বিকালে আরএমপির সদর দফতরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মোটিভ এখনো উদঘাটিত হয়নি। হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে র্যাবের হাতে আটক ছয় জনের তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
আরএমপি কমিশনার বলেন, জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২’ নামে ফেইসবুক পেইজে হত্যার দায় স্বীকার করে দেয়া পোস্টের সঙ্গে জড়িত দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বগুড়া থেকে গ্রেফতারকৃতরা হলেন– বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঘাঘুরদুয়ার বেসরকারি ক্যাডেট মাদ্রাসার শিক্ষক শরিফুল ইসলাম ও বগুড়া সদর এলাকার গোকুল তসলিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের অস্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বাধীন (১৪)। তারা দুই জনই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। র্যাব ও পুলিশের হাতে আটকদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে আরো পরিষ্কার হওয়া যাবে।
গত রবিবার ঢাকায় র্যাব সদর দফতরে আয়োজিত র্যাব কর্মকর্তারা দাবি করেন, ‘যুবদল নেতা পিন্টুর স্ত্রী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিভাগের সেকশন অফিসারের সঙ্গে ড. শফিউল অসদাচরণ করেন। অপমানের প্রতিশোধ নিতেই ঐ কর্মকর্তার স্বামী যুবদল নেতা আবদুস সামাদ পিন্টু ও কাটাখালি পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম মানিক অধ্যাপক শফিউলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তাদের দুই জনসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শফিউল হত্যায় জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।’

পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত ১১ আসামির মধ্যে ৮ জনকে দ্বিতীয় দফায় রিমাণ্ডে নিয়েছে পুলিশ। বিচারক ৮ জনের প্রত্যেকের একদিন করে পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড মঞ্জুর করা আসামিরা হলেন- বিনোদপুর ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ন কবির, মোশারফ হোসেন, ফজলুল হক, সাইফুদ্দিন, রেজাউল করিম, জিন্নাত আলী, সাগর ও আরিফ।