রায়গঞ্জে প্রায় ৯২ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। উপজেলার ২৭২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৪৯টিতে আজো কোনো শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, উপজেলায় মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৭২টি। এর মধ্যে শহীদ মিনার রয়েছে মাত্র ২৩টিতে। ২৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই ভাষা শহীদদের স্মরণে ও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে ফুল দেওয়ার মতো শহীদ মিনার। ২৭২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৮৫টি। এরমধ্যে শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছে মাত্র সাতটিতে। উচ্চ বিদ্যালয় ৪২টির মধ্যে শহীদ মিনার বিদ্যমান ১০টিতে। নয়টি কলেজের মধ্যে শহীদ মিনার রয়েছে ছয়টিতে। ৩১টি মাদ্রাসা ও পাঁচটি কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজের একটিতেও শহীদ মিনার নেই।
অপরদিকে প্রয়োজনীয় সংস্কার অভাবে নিমগাছি ও ধামাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারসহ অধিকাংশ শহীদ মিনারের অবস্থা জরাজীর্ণ। সিমলা মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান রাজু বলেন, সরকার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছে। এটা শিক্ষা ক্ষেত্রে জাতির জন্য ঐতিহাসিক অবদান। এই অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমরাও সরকারকে কিছু দিতে পারি। তা হলো শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষাদানের পাশাপাশি তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করার জন্য বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করাসহ সকল জাতীয় কর্মসূচি যথাযথভাবে পালন করা।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আকতারুজ্জামান জানান, চলতি বছরই জরাজীর্ণ শহীদ মিনার সংস্কার করাসহ শতভাগ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম শাহাদত হোসেন বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ব্যবস্থাপনা কমিটিকে শহীদ মিনার নির্মাণের ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারিভাবে কোনো আর্থিক বরাদ্দ না থাকায় তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়নি।