পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)। বুধবার বিএমবিএ সভাপতি তানজিল চৌধুরী বলেছেন, ‘বাজার ইতিবাচক হওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা কেন পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার মতো সিদ্ধান্ত নেব। বিএমবিএ যে সব প্রস্তাব দিয়েছে, সেগুলো প্রয়োজনের নিরিখেই দেয়া হয়েছে। বিএসইসি সেগুলো বিচার-বিবেচনা করার পরই বাস্তবায়নের বিষয় আসবে।’ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন। এ সময় বিএমবিএর সহসভাপতি মো. মনিরুজ্জামান ও সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজসহ বিএমবিএর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাপনায় সম্প্রতি বিএসইসির কাছে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে বিএমবিএ। কেউ কেউ এ সব প্রস্তাবের ফলে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে ধারণা করছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এ সময় তানজিল চৌধুরী বলেন, ‘মার্জিন ঋণখেলাপিদের তথ্য সিআইবি রিপোর্টে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে, অনেকে বলেছেন এ কারণে মার্কেটে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কিন্তু বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে মার্চেন্ট ব্যাংক এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না’ তিনি বলেন, ‘এ সংক্রান্ত প্রস্তাব শুধু আলোচনার জন্য বিএসইসির কাছে দেয়া হয়েছে। মার্কেটে প্রভাব ফেলার জন্য দেয়া হয়নি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটা আসলে মার্চেন্ট ব্যাংকের স্বচ্ছতার জন্য ইসি কমিটির সঙ্গে আলোচনা করেই দেয়া হয়েছে। এটা নিয়ে বিএসইসির সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে বিএসইসি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। আলোচনাশেষে যে সিদ্ধান্ত হয় তা-ই মানা হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএমবিএর সহসভাপতি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা শুধু সিআইবির বিষয়ে প্রস্তাব করিনি। উপরন্তু মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর মূলধন বাড়ানোর ব্যাপারেও বলেছি। বাজারের ইতিবাচক দিক বিবেচনা করেই এ সব প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন বিএসইসি বিনিয়োগকারী ও বাজারের সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
এ দিকে, মার্চেন্ট ব্যাংকে যারা মার্জিন ঋণখেলাপি তাদের তথ্য সিআইবিতে সংরক্ষিত থাকে না। ফলে মার্জিন ঋণখেলাপি গ্রাহক একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারেন তথ্য গোপন করে। এ প্রবণতা ঠেকাতে এবং বর্তমানে বিপুল পরিমাণ বকেয়া মার্জিন ঋণের চাপে বিপর্যস্ত মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়ে এমন প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করা হলে ঋণখেলাপিরা নতুন ঋণ আবেদন করতে সিআইবি ছাড়পত্র লাগবে। ছাড়পত্রে কেউ ঋণখেলাপি থাকলে তিনি নতুন করে মার্জিন ঋণ নিতে পারবেন না। এ ছাড়া, প্রস্তাবনায় রয়েছে ঋণাত্মক ইক্যুইটির হিসাবে সুদ আরোপ বন্ধ রাখা এবং ওই সুদ আয়-ব্যয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত না করা।