ফেনীতে পাঁচ বছর পর মা-ছেলে বন্দীদশা থেকে মুক্তি

ফেনীতে মানসিক রোগী সাজিয়ে পাঁচ বছর ঘরের মধ্যে তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছিল এক মা ও তার ছেলেকে। বুধবার তাদের বন্দীদশা থেকে মুক্ত করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে ফেনী শহরের রামপুর শাহীন একাডেমি এলাকার একটি বাড়ী থেকে পুলিশ তাদের ওই ঘরের তালা ভেঙ্গে উদ্ধার করে। মা জাহানারা বেগম রোজী (৪০) ও ছেলে মেহেদী ইসলাম জীমুনকে (১১) উদ্ধারের পর ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১০ সাল থেকে তারা মা-ছেলে ওই ঘরে বন্দী ছিলেন। দীর্ঘসময় ঘরে বন্দী থেকে মা জাহানার বেগম রোজী আরো বেশী মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন এবং ছেলে মেহেদী ইসলাম জীমুন অসুস্থ মায়ের সঙ্গে স্বল্প আলোতে থেকে চোখের সমস্যাসহ নানা রোগে আক্তান্ত হয়েছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, জাহানারা বেগম রোজী বিশ্ববিদ্যলয় থেকে মাষ্টার্স ডিগ্রি লাভের পর ঢাকার একটি কলেজে শিক্ষকতা করতেন। স্বামী আবুল কালাম আজাদ ভূঁঞা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা। তাদের এক সন্তান জন্মের পর স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটে। তখন জাহানারা বেগম রোজীর কিছুটা মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। কলেজে চাকরী ছেড়ে ছেলে মেহেদী ইসলাম জীমুনকে সঙ্গে করে বাবার বাড়ী চলে আসেন। এক পর্যায়ে রোজীর বড় ভাই শেরশাহ তার বোন ও ভাগিনাকে একটি ছোট ঘরে রেখে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। বড় ভাই শেরশাহ ঢাকায় বসবাস করেন। কিন্তু তার পরিবারের অন্যান্য সদস্য বাড়িতে থাকেন। তারা বন্দী জাহানারা বেগম ও তার ছেলেকে বাইরে থেকে জানালা দিয়ে খাবার দিত। ঘরে থাকা পাখাটি নষ্ট, একটি মাত্র স্বল্প আলোর বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলতো ঘরে।
প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে বড় ভাই শেরশাহ তার সব আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীদের বলে গিয়েছিলেন জাহানারা বেগমের ঘরের তালা যেন খুলে না দেওয়া হয়। ঘরের জানালা দিয়ে বাইরে কাউকে দেখলেই শিশু মেহেদী ইসলাম জীমুন তাদেরকে উদ্ধারের আকুতি জানাত। কিন্তু সে আকুতি কারো মন গলাতে পারেনি।
ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব মোরশেদ পাঁচ বছর এক ঘরে বন্দী থাকা মা-ছেলেকে উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ফেনী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডাঃ অসীম কুমার সাহা মা ও ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মা জাহানারা বেগম রোজী মানসিক বিকারগ্রস্থ রোগী এবং ছেলে মেহেদী ইসলাম জীমুন দীর্ঘদিন অল্প আলোতে থেকে চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। তবে চিকিৎসা করা হলে সে ভাল হয়ে উঠবে।

ফেনী পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল হক বুধবার সন্ধ্যায় মা ও ছেলেকে দেখতে হাসপাতালে যান। মা-ছেলে দুইজন এ সময় কিছু অসংলগ্ন কথা বলেন।