জার্মান জায়ান্ট বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের জয়ের ধারাকে থামিয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লীগের শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে আর্সেনাল। এর মাধ্যমে টানা ১৫তম মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় নক আউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো গানার্সরা।
বুধবার গ্রুপ-ডি’র ম্যাচে ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে আর্সেন ওয়েঙ্গারের দল ২-০ গোলে বরুসিয়াকে পরাজিত করেছে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে টানা দুই ম্যাচে সোয়ানসি এবং ম্যানচেস্টার সিটির কাছে পরাজিত হয়ে শিরোপা দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়া আর্সেনালের জন্য ইউরোপের এই জয়টা অত্যন্ত জরুরি ছিল।
ঐ দুই ম্যাচে পরাজয়ের পরে আর্সেনালের সমর্থকরা ওয়েঙ্গারের পদচ্যুতিরও দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু কালকের এই জয়ে আপাতত ওয়েঙ্গারের জন্য কোন দু:সংবাদ আনছে না বলেই ধরে নেয়া যায়। ম্যাচের দুই মিনিটের মধ্যেই ফ্রান্সের তরুণ স্ট্রাইকার ইয়াইয়া সানোগো গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ২০১৩ সালে অক্সিরে থেকে ফ্রি ট্রান্সফার সুবিধাতে আর্সেনালে যোগ দেবার পরে ১৮ ম্যাচ পরে এটি ছিল তার প্রথম গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে এ্যালেক্সিস সানচেজের দুর্দান্ত গোলে উত্তর লন্ডনের দলটির জয় নিশ্চিত হয়। এই ম্যাচের আগে নক আউট পর্বে যেতে গার্নাসদের এক পয়েন্ট প্রয়োজন ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় দিয়েই ইউরোপের এলিট ক্লাব প্রতিযোগিতায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখলো ওয়েঙ্গারের শিষ্যরা।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিকদের প্রাধান্য ছিল। এই জয়ের পরে ধারণা করা হচ্ছে আগামী ৯ ডিসেম্বর গ্যালাতাসারের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জয় দিয়ে আর্সেনাল গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবেই শেষ ১৬তে যাবে। তবে সেক্ষেত্রে এ্যান্ডারলেচের বিপক্ষে ডর্টমুন্ডের হারের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে প্রিমিয়ার লীগের জায়ান্টদের।
হাঁটুর ইনজুরির কারনে ড্যানি ওয়েলবেকের অনুপস্থিতি, অলিভার জিরার্ডের খেলতে না পারা এসবই ওয়েঙ্গারকে ম্যাচের আগে দু:শ্চিন্তায় ফেলেছিল।
ওয়েঙ্গার অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই জার্মান স্ট্রাইকার লুকাস পোদোলস্কির পরিবর্তে একমাত্র স্ট্রাইকার হিসেবে অনভিজ্ঞ সানোগোকে মূল একদশে জায়গা করে দেন।
আক্রমনভাগে ওয়েঙ্গারের খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে আবারো সড়ব হয়ে ওঠা সমালোচকদের মুখ এবার সত্যিকার অর্থেই বন্ধ করার সুযোগ করে দিয়েছেন এই ফ্রেঞ্চ স্ট্রাইকার।
মাত্র ৭৩ সেকেন্ডে দলকে এগিয়ে দিয়ে কোচের আস্থার ভালই জবাব দিয়েছেন।
সান্টি কাজোরলার পাস থেকে ঠান্ডা মাথায় ফ্রান্সের অনুর্ধ্ব-২১ দলের এই ফরোয়ার্ড যেভাবে ডর্টমুন্ডের গোলরক্ষক রোমান ওয়েইডেনফেলারকে পরাস্ত করেছেন তাতে যেকোন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারের সাথে তার তুলনা করা যেতেই পারে।
এক গোলে পিছিয়ে থাকার পরে জার্গেন ক্লপের দলের বেশ কিছু অপেশাদার রক্ষনাত্মক কৌশল সকলকে বিস্মিত করেছে।
বিশেষ করে ইনজুরির কারনে ওয়েলবেক, জ্যাক উইলশিয়ার, ওজিচেক সিজিসনি এবং থিও ওয়ালকটের অনুপস্থিতি যেখানে ওয়েঙ্গারের মূল একাদশ গঠনে সমস্যা ফেলেছিল তার বিপরীতে ডর্টমুন্ড এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।
৫৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করে ডর্টমুন্ডের পরাজয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লীগে তাদের জয়ের ধারাও থামিয়ে দিয়েছেন সানচেজ।
এর আগে অবশ্য এ্যালেক্স ওক্সালেড-চেম্বারলেইনের ভলি ক্রসবারে না লাগলে জয়ের ব্যবধান হয়ত আরো বাড়তে পারতো।
এই ম্যাচের পরাজিত হলেও আগের চার ম্যাচে শতভাগ সাফল্য নিয়ে বরুসিয়া আগেই নক আউট পর্ব নিশ্চিত করেছিল।