রাবির অধ্যাপক একেএম শফিউল ইসলাম হত্যায় প্রকৃত জড়িতদের গ্রেফতারসহ ছয় দফা দাবিতে আগামী ১ ডিসেম্বর সোমবার নগরীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদল। শুক্রবার বিকেলে নগরীর সাহেব বাজার এলাকায় বিক্ষোভ শেষে ভূবনমোহন পার্কে আয়োজিত সমাবেশ থেকে এই হরতালের ঘোষণা দেয়া হয়। ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইমতিয়াজ আহম্মেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুর রহমান রিটন, সাধারণ সম্পাদক শাহ মঈনুদ্দিন চৌধূরী শান্ত, সহ-সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান, ছাত্রদল নেতা আবু আহমেদ লাল্টু ও রাজু আহমেদ মামুন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে ছাত্রদল নেতারা বলেন, ‘গত ১৫ নভেম্বর বিকেলে বাড়ির সামনে ড. শফিউল ইসলাম নির্মমভাবে খুন হওয়ার পরে র্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে ধরনের বক্তব্য দিয়ে আসছে, তাতে এই হত্যকা্লটির মোটিভ উদ্ধার নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত খুনিরা হয়তো আড়ালে থেকে যেতে পারে।’ এই হত্যাকা্লের মোটিভ উদ্ধারসহ প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আগামী ১লা ডিসেম্বর (সোমবার) সকাল-সন্ধ্যা নগরীতে হরতাল আহ্বান করা হয়েছে। এরপরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ড. শফিউল ইসলামের প্রকৃত খুনিদের চিহ্নত করতে ব্যর্থ হলে আরো বৃহত্তর কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রশাসনের প্রতি হুশিয়ারি দেন। তাদের অপর পাঁচদফা দাবির মধ্যে রয়েছে, সকল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ, বিসিএস পরীক্ষায় ছাত্রলীগের জন্য ঘোষিত সুবিধা থেকে বিরত থাকা, সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকল সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমামের পদত্যাগ।
বক্তারা আরো বলেন, ‘শিক্ষাঙ্গনে সরকার দলের সংগঠন ছাত্রলীগ অসন্তোষ সৃষ্টি করে চলেছে। সেই ছাত্রলীগেই আবার বিসিএস’র মতো একটি বড় ধরনের সরকারি চাকরির ক্ষেত্র সৃষ্টিকারী পরীক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বিশেষ সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যা অনভিপ্রেত। এতে করে সরকারি দপ্তরে শুধুমাত্র ছাত্রলীগের ক্যাডাররাই সুযোগ পাবে। বঞ্চিত হবে প্রকৃত মেধাবীরা।’
প্রসঙ্গত, গত ১৫ নভেম্বর বিকেলে ড. শফিউলকে তাঁর বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর পুলিশ প্রথমে দাবি করেছিল জামায়াত-শিবিরসহ কোনো মৌলবাদি জঙ্গি গোষ্ঠী জড়িত। পরে র্যাব ছয় যুবদল নেতাকে আটকের পর দাবি করে, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগত অপমানের প্রতিশোধ নিতে ড. শফিউল জেলা যুবদলের আহবায়কসহ ১১ জনের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে ড. শফিউলকে হত্যা করা হয়।