জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উচ্চতর গবেষণায় শিক্ষার্থী কমতে কমতে নিচের দিকে গিয়ে ঠেকেছে। একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও ইনস্টিটিউটে এমফিল ও পিএইচডি ভর্তিতে কঠিন শর্ত আরোপ করেছে, অন্যদিকে গবেষণার উচ্চমান নিশ্চিত করতে কঠিন শর্তেরও কোনও বিকল্প দেখছেন না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে সংকুচিত হচ্ছে উচ্চতর গবেষণার পথ। গবেষণায় আগ্রহী পিএইচডি শিক্ষার্থীরা গবেষণাকর্ম সুপারভাইজ করার জন্য অধ্যাপক না পাওয়া, পিএইচডি গবেষণায় আবেদন করার জন্য অতিরিক্ত শর্তারোপের ফলে গবেষণায় আগ্রহ হারাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, ‘গবেষণার উচ্চমান ধরে রাখতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামের স্বার্থেই শর্তারোপ করা হয়েছে। এখন আমরা সে মানের শিক্ষার্থী পাচ্ছি না।’
গবেষণাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অর্জন বলা হলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষকের সংখ্যা খুবই নগণ্য। পিএইচডি শিক্ষার্থীকে গবেষণার জন্য আবেদন করতে হলে তিন বছরের শিক্ষকতা, শিক্ষাজীবনে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ মার্ক থাকতে হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গবেষকের জন্য ডেস্ক, ক্লাস নেওয়ার সুযোগ এবং সম্মানীর ব্যবস্থা না থাকা, শিক্ষকের দেখভাল ও সুপারভাইজের অভাবের ফলে জবিতে গবেষণা করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে গবেষণায় নেমে এসেছে ভাটা।
তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ২০ অক্টোবর-২০১৮ বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দফতর থেকে প্রকাশিত ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বার্তা’য়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু হয়। ওই শিক্ষাবর্ষে ১০ গবেষক পিএইচডি প্রোগ্রামে যোগ দেন। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ও ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে নয়জন করে গবেষক যোগ দেন। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ১৪ জন। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে পাঁচজন ও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ১২ জন গবেষক যোগ দেন। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে গবেষণা খাতে বরাদ্দ ছিল ৬০ লাখ টাকা ও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে বরাদ্দ ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয় কেন গবেষক পাচ্ছে না এবং গবেষণার নাজুক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দীন বলেন, ‘একজন গবেষককে যেভাবে দেখভাল করা দরকার, তার যথাযথ ব্যবস্থা আমাদের এখানে নেই। গবেষকদের সুপারভাইজ করার মতো সেই মানের শিক্ষকেরও সংকট আছে এখানে। তাছাড়া শিক্ষার্থীরাও গবেষণায় আগ্রহী না।’
একজন অধ্যাপক নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘গবেষণা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সর্বোচ্চ সফলতা ও একাডেমিক উন্নয়নের জন্য মানদণ্ড, কিন্তু আমরা একজন গবেষককে কোনো সুবিধাই দিতে পারছি না। কারণ পিএইচডি গবেষণা হলো এক ধরনের চাকরি, যেখানে গবেষকের নিজস্ব ডেস্ক থাকবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানী পাবেন, তিনি ক্লাস নেবেন। কিন্তু আমরা এ ধরনের কোনো সুবিধা দিতে পারি না। ফলে আমাদের এখানে গবেষকের সংখ্যা কমছে এবং গবেষণায় ভাটা পড়েছে।’