রশিদ জাদুতে হোয়াইটওয়াশ আইরিশরা

সপ্তম ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে হ্যাটট্রিক করেছেন আফগানিস্তানের রশিদ খান। তবে, তার কীর্তিটা এর চেয়েও বড়। প্রথম বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে তিনি পরপর চার বলে উইকেট পেয়েছেন। এর সুবাদে আইরিশরা অনুমিত ভাবেই রবিবার রাতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি হোয়াইটওয়াশ হয়েছে আফগানদের বিপক্ষে। এটা আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের টানা ১০ম জয়।

এর আগে টি-টোয়েন্টিতে হ্যাটট্রিক করা ছয়জনই ছিলেন পেসার। এবার প্রথম স্পিনার হিসেবে হ্যাটট্রিক পেলেন রশিদ খান। যদিও, তার পাঁচ উইকেট প্রাপ্তির দিনে অবশ্য ম্যাচ সেরার পুরস্কারটা উঠেছে আরেকজনের হাতে। তিনি হলেন মোহাম্মদ নবী। তার অবশ্য কারণও আছে।  তিনি সাতটি ছক্কা ও ছয়টি চারের সৌজন্যে ৮১ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেন। আফগানদের ইনিংসে এই একটাই হাফ সেঞ্চুরি। এরই সুবাদে টসে হেরে ব্যাট করতে নামা আফগানিস্তান ভারতের দেরাদুনের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাত উইকেট হারিয়ে করে ২১০ রান।

আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান হজরত উল্লাহ জাজাই করেন ৩১ রান। আয়ারল্যান্ডের হয়ের পেসার বয়েড র্যাংকিন নেন তিনটি উইকেট। জবাব দিতে নেমে মাত্র তিন উইকেট হারিয়েই ১৫৪ রানে পৌঁছে যায় আয়ারল্যান্ড। এরপর শুরু হয় রশিদ খানের জাদু। মাত্র পাঁচ রানেই চারটি উইকেট হারায়। তাই জয়ের স্বপ্ন ধুলিস্যাত্ হয়ে যায় আয়ারল্যান্ডের।

রশিদ খান ২৭ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন। জিয়াউর রহমান নেন দুই উইকেট। আয়ারল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৪ রান করেন কেভিন ও’ব্রায়েন। এ ছাড়া অ্যান্ড্রু বালবির্নি করেন ৪৭ রান।

ম্যাচ সেরার মতো সিরিজ সেরার পুরস্কারও পেয়েছেন নবী। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘এটা দারুণ একটা অনুভূতি। যদি আমি ব্যাটিংয়ে পারফর্ম করতে না পারি, তা হলে বোলিং বা ফিল্ডিং দিয়ে সেরা পুষিয়ে দিতে চাই। এর মধ্য দিয়ে দলের তরুণদের মধ্যে একটা ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে যায়। আমি ও রশিদ বিশ্বজুড়ে অনেক ক্রিকেট খেলে বেড়াই। বাকিদের মধ্যে সেই অভিজ্ঞতাটা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা সব সময়ই থাকে আমাদের।’

সংক্ষিপ্ত স্কোর

টস: আয়ারল্যান্ড

আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ২১০/৭ (জাজাই ৩১, গনি ১৩, তারাকাই ১৭, আফগান ২০, নবী ৮১, জাদরান ১২, শফিকউল্লাহ ১২, রশিদ ৭*, আশরাফ ৩*; সিমি ০/৫, র?্যানকিন ৩/৫৩, চেইস ১/৩৮, লিটল ০/৪৫, টম্পসন ০/১৬, ডকরেল ১/২৬, গেটকেট ১/২১)।

আয়ারল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৭৮/৮ (স্টার্লিং ১০, ও’ব্রায়েন ৭৪, বালবার্নি ৪৭, টম্পসন ১, ডকরেল ১৮, গেটকেট ২, পয়েন্টার ১০*, সিমি ০, লিটল ৬, র?্যানকিন ২*; জিয়া ২/৪২, শিরজাদ ০/৪২, আশরাফ ০/৩৯, নবী ০/২৮, রশিদ ৫/২৭)।

ফল: আফগানিস্তান ৩২ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা: মোহাম্মদ নবী।

সিরিজ সেরা: মোহাম্মদ নবী। সিরিজ: আফগানিস্তান ৩-০ ব্যবধানে জয়ী।