আগামী বছরের বিশ্বকাপের পরও তারকা ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারার টেস্ট ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া উচিত বলে মনে করছেন শ্রীলংকার সাবেক গ্রেট অরবিন্দ ডি সিলভা। আগামী বিশ্বকাপের পর আর একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেললেও টেস্ট ক্রিকেট চালিয়ে যেতে পারেন বলে ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন সাঙ্গাকারা। স্থানীয় দ্য আইল্যান্ড পত্রিকায় দেয়া এক সাক্ষাত্কারে ডি সিলভা বলেন, বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানার আগে সাঙ্গাকারার আরো একটি মাইলফলক অতিক্রম করা উচিত।
ডি সিলভা বলেন, ‘দুই বছর আগে আমার মনে হয়েছিল চারজন ক্রিকেটার আছেন যারা টেস্ট ক্রিকেটে শচীন টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভাঙ্গতে পারবে। তাদের মধ্যে দুইজন শ্রীলংকান হবে বলে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম আমি।’ তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল মাহেলা জয়াবর্ধনে, সাঙ্গাকারা, ইংল্যান্ডের অ্যালিস্টার কুক এবং ভারতের বিরাট কোহলি এই চারজনের সম্ভাবনা আছে টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভাঙ্গার। এখন দেখছি মাহেলা শেষ। কিন্তু সাঙ্গাকারার চালিয়ে যাওয়া উচিত। আমি অত্যন্ত গর্বিত যে আমাদের শ্রীলংকানদের কিছু দারুণ রেকর্ড রয়েছে। আমরাই একমাত্র তরুণ টেস্ট জাতি কিন্তু আপনি আমাদের রেকর্ডগুলোর দিকে তাকান। টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসে আমরা সর্বোচ্চ রান করেছি, টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী আমাদের। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) পূর্ণ সদস্যের মর্যাদা পাওয়ার ১৫ বছর পরই আমরা বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করেছি। কয়েকটি দেশ আছে যারা একশ’ বছরের বেশি সময় যাবত্ টেস্ট ক্রিকেট খেলছে কিন্তু এমন মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেনি। টেস্ট ক্রিকেটে সাঙ্গাকারা সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়ে বিদায় নিলে আমি গর্ব বোধ করব।’
রেকর্ড ২০০ টেস্ট ম্যাচে খেলে সর্বোচ্চ ১৫৯২১ রানের মালিক টেন্ডুলকার। আর বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে ১২৮ টেস্ট খেলে সর্বোচ্চ ১১৯৮৮ রানের মালিক সাঙ্গাকারা। বয়স ৩৭ হলেও খেলাটির প্রতি সাঙ্গাকারার আকর্ষণ এতটুকু কমেনি। চলতি বছর টেস্টে ৭৮ গড়ে সর্বোচ্চ ১৪৮৬ রান করেছেন সাঙ্গাকারা। শ্রীলংকা ক্রিকেটকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করানোর অন্যতম কারিগর ডি সিলভা বলেন, ‘আমি দেখেছি সাঙ্গাকারার মধ্যে এখনো ক্ষুধা ও আকর্ষণ রয়েছে। আমি মনে করি যতদিন তার মধ্যে এই ক্ষুধা থাকবে এবং একই সঙ্গে প্রাপ্যটা পাবেন ততদিন পর্যন্ত তার টেস্ট ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া উচিত। তার কখন থামতে হবে তা সে জানে। সেই দিনটি যতদিন পর্যন্ত না আসবে ততদিন তার চালিয়ে যাওয়া উচিত বলে আমি মনে করি এবং তার লক্ষ্যে না পৌঁছা পর্যন্ত পুরো দেশ তাকে সমর্থন করবে।’
তবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে ডি সিলভা এটাও বুঝতে পারছেন কেবল রেকর্ডের কথা মাথায় রেখে খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না, ‘আমার খেলোয়াড়ী জীবনে এ ধরনের রেকর্ড নিয়ে আমি খুব বেশি চিন্তা করিনি। তবে একটা দেশ হিসেবে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। আমার আশা সাঙ্গা এ রেকর্ডের প্রতি মনোযোগী হোক এবং এ লক্ষ্য অর্জন করুক। আমি নিশ্চিত কোন একদিন কোহলি এ রেকর্ড ভাঙ্গবে। তার মধ্যে সে ধরনের মেধা রয়েছে। তার আগে এমন রেকর্ড ভাঙ্গার জন্য ক্ষুধা এবং একাগ্রতা সাঙ্গার মধ্যে থাকুক আমি এটাই চাই। আমি জানি একটা বিশ্বকাপের পর এ মোটিভেশন থাকাটা কঠিন। তবে পুরো জাতি তার পেছনে তার মোটিভেশন থাকতে বাধ্য।’
একই সঙ্গে অনেক বেশি সিনিয়র খেলোয়াড় বিদায় নেয়াটা মোটেই ভাল নয় এবং এ জন্যও সাঙ্গার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন ডি সিলভা।
তিনি বলেন, ‘তার পাশাপাশি আরো কয়েকজন খেলোয়াড় আমাদের তৈরি করা দরকার এবং দ্রুত আমাদের এটা করতে হবে। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ যথেষ্ট মেধার পরিচয় দিয়েছে এবং বেশ ভালভাবে চাপ সামাল দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে সে অত্যন্ত চমত্কার পারফর্ম করছে। লাহিরু থিরিমানে দল থেকে বাদ পড়ায় আমি বিস্মিত হয়েছি। আমি মনে করছি সে এমন একজন খেলোয়াড় যে একদিন সাঙ্গার জায়গায় বসবে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে আমি তার সক্ষমতা দেখেছি।’
ডি সিলভার ক্যারিয়ারের শেষদিকে অনেকেই বিশ্বাস করতেন তার পরিবর্তে শ্রীলংকার শীর্ষ ব্যাটসম্যান হিসেবে মাহেলা আবির্ভূত হবেন। তবে ডি সিলভা যুগ শেষ হওয়ায় সাঙ্গাকারা নিজেই দলের শীর্ষ ব্যাটসম্যানে পরিণত হন।
ডি সিলভা বলেন, ‘সাঙ্গা ক্যারিয়ারের কিছুটা শেষ দিকে পরিপক্কতা অর্জন করেছে। তার সাফল্যের মূলে রয়েছে তার খেলার স্টাইল। কিছু কিছু খেলোয়াড় খুবই ধারাবাহিক। মাহেলা ভিন্ন ধর্মী খেলোয়াড়। সে অনেক বেশি ঝুঁকি নেয়। পক্ষান্তরে সাঙ্গা মূলত ঝুঁকির উপাদানগুলো কমিয়ে দেয়। একটা দলে আপনার দরকার মেধার কম্বিনেশন।’