ওয়ানডে ক্রিকেটের বয়সটা কম হল না। সেই ১৯৭১ সালে যাত্রা শুরু করা একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কম বিস্ময়কর কীর্তি দেখেনি। তবে গতকাল তাইজুল যেটা করলেন, সেটা যে বিস্ময়েরও বিস্ময়; ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে অভিষেকেই হ্যাটট্রিক তুলে নিলেন।
তাইজুলের এমন ইতিহাস গড়ার দিনে বাংলাদেশ করলো আরেকটি রেকর্ড। ওয়ানডেতে প্রতিপক্ষকে দশমবারের মতো হোয়াইট ওয়াশ করেছে বাংলাদেশ।
যদিও শেষ ম্যাচে এসে বাংলাদেশ বিস্ময়করভাবে একটু আতঙ্কের মুখোমুখি হয়েছিল। তারপরও এই ‘লো স্কোরিং’ ম্যাচেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখলো মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারিয়ে নিশ্চিত করলো তারা হোয়াইট ওয়াশ। সেই সঙ্গে বিশাল এক জয় দিয়েই বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন মাশরাফির যুগের সূচনা হলো।
বাংলাদেশের বোলাররা, বিশেষ করে তাইজুল ইসলাম ও সাকিব আল হাসান যে শুরু এনে দিয়েছিলেন, তাতে অবশ্য আরো দাপুটে জয় দল আশা করতে পারতো। জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের কার্যত দিশেহারা করে দিয়ে ১২৮ রানে অল-আউট করে দিয়েছিলেন বোলাররা। এই রান টপকাতেই ৫ উইকেট হারাতে হলো বাংলাদেশকে।
অবশ্য জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ের শুরুটা একটু ব্যতিক্রমী ছিল গতকাল। সিরিজের প্রথমবারের মতো আগে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছিল তারা টসে হেরেও। একেবারে শুরুতে মাশরাফি যথারীতি সিকান্দার রাজাকে ফিরিয়ে ধাক্কা দিলেও দারুণ মেরামত করছিলেন হ্যামিলটন মাসাকাদজা ও ভুসিমুজি সিবান্দা। দুইজনে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৭৯ রান।
১৮তম ওভারে ১ উইকেটে ৯৫ রানে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে; রান রেট তখন ওভারপ্রতি ৬-এর কাছাকাছি। এই অবস্থা থেকেই জিম্বাবুয়ের মহাপতন শুরু হয়। তিন স্পিনার জুবায়ের, সাকিব ও তাইজুলের ঘূর্ণি আক্রমণে জিম্বাবুয়ে ছিটকে পড়ে খেলা থেকে। পরের ৩৩ রানে তিন স্পিনার ৯টি উইকেটই তুলে নেন জিম্বাবুয়ের।
মাসাকাদজাকে ফিরিয়ে দিয়ে প্রথম ধাক্কাটা দেন ওয়ানডেতেও দারুণ বল করতে থাকা লেগস্পিনার জুবায়ের হোসেন। এরপর সাকিব আল হাসান নিজের পরপর দুই ওভারে তুলে নেন সিবান্দা ও টেলরের উইকেট। আবার আক্রমণে এসে জুবায়ের যখন পঞ্চম ব্যাটসম্যান মারুমাকে ফেরান, তখনই আসলে তাদের বড় পুঁজি করার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গিয়েছিল। এরপরই মঞ্চে আসেন তাইজুল ইসলাম।
নিজের ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে ইনফর্ম সুলেমান মিরেকে এলবিডব্লিউ করে ফেরালেন। আর এই ওভারের শেষ বলেই বোল্ড করলেন পানায়াঙ্গারাকে। তখনো বোঝা যায়নি, পরের ওভারের জন্য কী চমক অপেক্ষা করছে। তাইজুলের পরের ওভারের প্রথম বলে এলবিডব্লিউ জন নিয়ুম্বু। সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসের প্রথম অভিষিক্ত হিসেবে হ্যাটট্রিকের মুখোমুখি হয়ে গেলেন তাইজুল। হ্যাটট্রিক বলটা খেলতে এসেছিলেন চাতারা। তিনি এক বিস্ময়কর উচ্চাভিলাষী শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে ফিরলেন।
এরপর জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ের যেটুকু বাকি ছিল, সাকিব এসে কামুঙ্গোজিকে ফিরিয়ে সেটুকুও শেষ করে দেন।
জবাবে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটাও ছিল ভয়ানক।
জিম্বাবুয়ের পেসাররা চার স্লিপ, গালিসহ একেবারে আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজিয়ে বোলিং শুরু করেন। তাতে ৫৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। সেখান থেকে আরো একবার দলকে উদ্ধার করে আনেন মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। মুশফিক জয় থেকে ৩৬ রান দূরে আউট হয়ে গেলেও মাহমুদউল্লাহ আরো একটি ফিফটি করে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন।
জেপির অভিনন্দন
বাংলাদেশ জিম্বাবুয়েকে হোয়াইট ওয়াশ করায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সকল খেলোয়ার, অধিনায়ক, কোচ ও কর্মকর্তাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম। গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় তাদের অভিনন্দন জানিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখবে এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।