ছাগলনাইয়ায় অস্ত্রসহ যুবলীগ নেতা আটক: প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

 
 
ছাগলনাইয়ার ঘোপালে দুই যুবলীগ কর্মীকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার দুপুর দেড়টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে এলাকাবাসী। এ সময় পুলিশ ও র্যাবের সঙ্গে এলাকাবাসীর দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ককর্টেল বিস্ফোরণ ও ব্যাপক সংঘর্ষে ছাগলনাইয়ার মুহুরীগঞ্জ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় । এতে দুইজন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১০ গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ঘটনাস্থলের দুপাশে কয়েক হাজার যানবাহন আটকা পড়ায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন ।
র্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, র্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের সদস্যরা সোমবার দুপুর ১টায় দৌলতপুর গ্রামের রাজপাড়ার তোফাজ্জল হকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তোফাজ্জল হকের ছেলে যুবলীগ কর্মী হায়দার আলী নয়ন (২৪) ও মোস্তফার ছেলে রিয়াদকে (২২) আটক করে।এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি বন্দুক, গুলি ও বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে র্যাব সূত্রে জানাগেছে। এলাকাবাসী জানায়, নয়ন ও রিয়াদের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম করে আসছিল। ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পেতনা। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অপর একটি সন্ত্রাসী ও মাদকব্যবসায়ী গ্রুপের সঙ্গে নয়ন গ্রুপের দ্বন্ধ চলে আসছে। আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে উভয় গ্রুপ এলাকায় কিছুদিন পর পর অস্ত্রের মহড়া দিয়ে থাকে।  এদিকে নয়ন ও রিয়াদকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এলাকাবাসী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছাগলনাইয়ার নতুন মুহুরীগঞ্জ এলাকায় গাছের গুড়িঁ ফেলে  ব্যারিকেট সৃষ্টি করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় । ব্যারিকেট সরাতে গেলে র্যাব পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা গ্রামবাসীর উপর রাবার বুলেট ও ব্যাপক লাঠিচার্জ করলে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয় এবং আরিফ(১৮), রহিমা (১৯), নুরুজ্জামান(৪৭), মহি উদ্দিন, সোহাগ ও খুরশিদসহ কমপক্ষে ১০গ্রামবাসী আহত হয় ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাগলনাইয়া থানার ওসি রাশেদ খান চৌধুরী পুলিশ ও র্যাবের শান্তিপূর্ণ প্রচেষ্টায় মহাসড়কের ব্যারিকেট সরানো হয়েছে বলে জানান।
আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুই জনকে আটকের সত্যতা স্বীকার করেছেন র্যাবের ফেনী অফিসের পরিচালক মেজর মহি উদ্দিন ।