পুলিশ-ইবি প্রশাসনের মামলায় তিন হাজার ‘অজ্ঞাত’ আসামি

বাসের চাপায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ বাদী হয়ে তিন মামলায় অজ্ঞাতনামা তিন হাজার লোকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। গতকাল ক্যাম্পাস জুড়ে দেখা গেছে আগেরদিনের ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন। অন্যদিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ জেলার বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির কাছে জিম্মিদশায় পড়ে ক্যাম্পাস থেকে বেরও হতে পারছে না আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ: গতকাল ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, রবিবারের ঘটনায় নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন পড়ে রয়েছে চারদিকে। রবিবার দুপুর ১২টার সময় ছাত্র নিহতের পর থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটে ক্যাম্পাসে। পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. মামুনুর রহমান বলেন, ‘৩৪টি বাসে আগুন দিয়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত ছাড়াও আরো অন্তত ১৫টি বাস ও মিনিবাস ভাংচুর করা হয়েছে। সেইসাথে সমগ্র ক্যাম্পাস জুড়ে বিভিন্ন অফিস ও স্থাপনায় ভাংচুরসহ ক্যাম্পাসের লাইটিং ব্যবস্থাও নষ্ট করা হয়েছে। ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিমের বাসভবনও বাদ যায়নি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক কোটি টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’ ভিসিসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিগণ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, কিছু বহিরাগত দুষ্কৃতকারী রয়েছে যাদেরকে তারা ভয় পান। তাদের উপস্থিতির কারণে নিরাপত্তার অভাববোধ করে ধ্বংসযজ্ঞ চলাকালীন ঘটনাস্থলে যেতে তারা সাহস পাননি।

জিম্মিদশায় ক্যাম্পাস: কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ পরিবহন মালিক সমিতির ডাকা ধর্মঘটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে গত রবিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ কার্যকর করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এমনকি গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় ক্ষুব্ধ কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের বাস মালিক সমিতির লোকজন কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থীকে পেলে জিনিসপত্র কেড়ে নেয়ার ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। ফলে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের বাস মালিক সমিতির কাছে সম্পূর্ণ জিম্মি হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।