১৭ দফা বাস্তবায়ন না করে সরকারি সংস্থাগুলো দায়িত্বে অবহেলা করেছে

হাইকোর্ট বলেছে, নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৭ দফা সুপারিশ করেছিলো সরকারি তদন্ত কমিটি। সরকারের যেসব সংস্থার দায়িত্ব ছিলো এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের তারা কোনো দায়িত্ব পালন করেনি বরং অবহেলা করেছে। যদি ওইসব সংস্থা অর্পিত দায়িত্ব পালন করত তাহলে চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এতগুলো সাধারণ মানুষের প্রাণহানি হত না। আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ ঘটনার মনিটর করছেন। কিন্তু তার একার পক্ষে তো সবকিছু করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকেই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। চকবাজারের চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক রিট আবেদন শুনানির জন্য উত্থাপনকালে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের গতকাল সোমবার এ মন্তব্য করেন। আজ মঙ্গলবার এসব আবেদনের ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য রেখেছে আদালত। হাইকোর্ট বলেন, এটাকে দুর্ঘটনা বলা যাবে না। এর দায় কাউকে না কাউকে নিতে হবে। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি আরেকজনের উপর দায় চাপিয়ে দিচ্ছেন এটা ঠিক নয়। ওইসব সুপারিশ বাস্তবায়িত না হলে ভবিষ্যতে হয়ত আরো খারাপ কিছু দেখতে হতে পারে।

বৃহস্পতিবার রাতে চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৬৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। এর আগে ২০১০ সালে নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারায় ১২৪ জন। ওই সময় সরকারের তদন্ত কমিটি পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিকের গোডাউন সরানোসহ ১৭ দফা সুপারিশ করে তা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে বলে। কিন্তু নয় বছর পেরিয়ে গেলেও সেই সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। বিভিন্ন  সংগঠন ও ব্যক্তি ওই ১৭ দফা সুপারিশ বাস্তবায়ন চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। এসব রিটে চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত, হতাহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য আদালতের কাছে নির্দেশনা চাওয়া হয়।

গতকাল দুপুরের পর একগুচ্ছ রিট আবেদন শুনানির জন্য হাইকোর্টে পেশ করেন আইনজীবীরা। তারা বলেন, আমাদের আবেদনগুলো দ্রুত শুনানি প্রয়োজন। এখানে জনস্বার্থের বিষয় জড়িত। এ পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল এ মামলায় শুনানি করবেন। সরকারও এ ঘটনায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আদালত বলে, পুরান ঢাকায় নানা সমস্যা। সেখানকার ভবন মালিকরা দুই/তিন গুণ বেশি মূল্যে ভাড়া দিয়ে গুলশান বনানীতে থাকেন। কি করছে সিটি করপোরেশন? তারা দেখেও না দেখার ভান করে। পুরান ঢাকার সড়কে ঠিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না। চার/পাঁচ মাত্রার ভূমিকম্প হলে হয়ত কিছু হবে না, কিন্তু সাত/আট মাত্রার ভূমিকম্প হলে একটি ভবনও থাকবে না। তখন এই পুরান ঢাকাকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে হবে।

হাইকোর্ট বলে, নিমতলীর ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী এতিম মেয়েদের দায়িত্ব নিয়েছেন। তাদের বিবাহের ব্যবস্থা করেছেন। নিমতলীর মত পুরান ঢাকায় যাতে কোনো অগ্নিকাণ্ড না হয় সেজন্য ১৭ দফা সুপারিশ করা হয়। সরকারের বেশ কয়েকটি সংস্থা তা কার্যকরে কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। এভাবে দায়িত্বে অবহেলার কারণে নাগরিকের প্রাণহানি হবে তা হতে পারে না। আদালত বলেন, আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কেড়েছে। কিন্তু এ ধরনের দুই একটি ঘটনা সেই ইমেজকে ম্লান করছে।

এ পর্যায়ে রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সরকার না চাইলে এসব সুপারিশের একটাও বাস্তবায়িত হবে না। আদালত বলেন, সরকারকে বাদ দিয়ে কোনো কাজ বাস্তবায়ন করা যাবে না। নিমতলীর ঘটনায় যারা রিট করেছিলেন তাদের উচিত ছিলো ১৭ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য আগেই হাইকোর্টে আসা। যদি আগেই আদালতের নজরে আনা হত তাহলে বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দেওয়া হত। এ সময় আদালতে আইনজীবী মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, অমিত দাসগুপ্ত, ইউনূস আলী আকন্দ উপস্থিত ছিলেন।