বরিশালের আগৈলঝাড়ায় উচ্ছেদ অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করলেন চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারী! তিনি স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তায় সম্প্রতি একটি বসতবাড়ি উচ্ছেদ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ২৩ নভেম্বর সকালে আগৈলঝাড়া সহকারী জজ আদালতের নেজারত শাখার জারিকারক (চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী) হেমায়েত খান নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে উপজেলার মোল্লাপাড়া গ্রামের ৩১ শতক জমি থেকে বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করেন। পৈত্রিক সূত্রে ওই জমির মালিক গ্রামের আছর উদ্দিনের কন্যা কুলসুম বিবি (৭০)। ঘর-বাড়ি হারিয়ে কুলসুম এখন দিশেহারা। নিরুপায় হয়ে তিনি রাস্তার ওপর খুপড়ি তৈরি করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। জমি উদ্ধারে তিনি প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, আদালতের আদেশে মাত্র দুই শতক জায়গা উচ্ছেদ করার কথা থাকলেও ওইদিন ৩১ শতক জমি দখলে নেয়া হয়। আগৈলঝাড়া থানার এস আই নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে ৭/৮ জন পুলিশ উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেন। এ ব্যাপারে ওসি মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, আদালত জারিকারককে আইনি সহায়তা প্রদান করার জন্য আমাকে নির্দেশ দিলে আমি তা পালন করি ।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সহকারী জজ আদালতের বিচারক রুবাইয়া আমেনা মোল্লাপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার শাহজাহান মৃধার অনুকূলে ২ শতক জমির ডিক্রির রায় ও পরে উচ্ছেদের নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি উচ্ছেদ বাস্তবায়ন করার জন্য একই আদালতের নাজিরকে নির্দেশ প্রদান করেন। তবে উচ্ছেদ পরিচালনার আগে কুলসুম বিবিকে কোন নোটিস প্রদান করা হয়নি।
এ ব্যাপারে জারিকারক হেমায়েত খানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেয়ার কথা অস্বীকার করে বিষয়টি নিয়ে নেজারত শাখার নাজির জালাল আহম্মেদের সাথে কথা বলার অনুরোধ জানান। তবে নাজিরের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করেও নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট দেবী চন্দের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার জানা মতে একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কোন ক্রমেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে পারেন না।
তবে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল আলম জানান, আদালত চাইলে যাকে ইচ্ছা তাকে উচ্ছেদ অভিযানের দায়িত্ব প্রদান করতে পারেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বারের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট তালুকদার মো. ইফনুস জানান, ম্যাজিস্ট্রেট ব্যাতিরেকে কোন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হতে পারে না।
এদিকে এ ঘটনায় গত ২৬ নভেম্বর কুলসুম বিবি বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শাহজাহান মৃধাসহ ১০ জনকে বিবাদি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য আগৈলঝাড়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।