রাজশাহী মহানগরীর নামোভদ্রার চকপাড়ায় আকাফুজি গবেষণা নার্সারিতে দেশের প্রথম প্রাকৃতিক হিমাগার নির্মিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে আজ শুক্রবার সকালে হিমাগারটির উদ্বোধন করবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় নির্মিত প্রাকৃতিক হিমাগারে বিদ্যুতের প্রয়োজন নেই। জলীয় বাষ্পের সাধারণ ধর্ম ব্যবহার করে ঘর ঠান্ডা রাখা হবে। বাঁশের তৈরি আরেক প্রযুক্তি বাতাসের আর্দ্রতা শোষণ করবে। ৩শ টন ধারণ ক্ষমতার এ হিমাগার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৪ লাখ টাকা। অথচ প্রচলিত পদ্ধতির সমান আয়তনের একটি হিমাগার নির্মাণে আড়াই কোটি টাকা প্রয়োজন বলে জানা যায়।
প্রাকৃতিক হিমাগারের প্রকল্প পরিচালক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এম মনজুর হোসেন বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের আর কোনো হিমাগার নেই। এখানে স্বল্প আয়ের কৃষকের উত্পাদিত পচনশীল শস্য সাশ্রয়ী মূল্যে সংরক্ষণ করা হবে। সাধারণ হিমাগারে ৮৫ কেজির এক বস্তা আলু রাখতে কৃষকের খরচ ৩শ ৫০ টাকা। এই হিমাগারে একই পরিমাণ আলু সংরক্ষণে খরচ লাগবে মাত্র ১শ টাকা। বিকল্প হিমাগারে আদা, পেঁয়াজ ছাড়াও ১ মাসের জন্য মরিচ, বেগুন, ফুলকপি ও বাঁধাকপি সংরক্ষণ করা যাবে।
তবে ১ বছর পর্যন্ত ব্যবহারের পর হিমাগারটির উপযোগিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মত দিয়েছেন গ্রিন টেকনোলজির গবেষক রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক নিয়ামুল বারি। তিনি বলেন, কাঠামো, ভেতরের তাপ ও আর্দ্রতার যে পরিমাপ দেখা গেছে, তাতে আশা করা যায়, হিমাগারটি প্রাকৃতিকভাবেই কাজ করবে। তবে ১ বছর দেখার পর এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।