জেলার মাধবপুরে হবিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ড এলাকায় গ্যাস ফিল্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গড়ে তুলেছেন এক অনন্য ফলের বাগান, যা শাহজিবাজার ফ্রুটস ভ্যালি হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। রঘুনন্দন পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই সুন্দরতম ফলের বাগান পর্যটক ও সৌন্দর্য পিপাসু মানুষদের আকৃষ্ট করছে। উল্লেখযোগ্য কোন অনুদান ছাড়াই গ্যাস ফিল্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এখানে শোভা পাচ্ছে ২০০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি ঔষধি, ফুল ও ফলের সহস্রাধিক গাছ। ফ্রুটস ভ্যালির পূর্ব পাশের বর্ধিত স্থানে কৃত্রিম পাহাড়, ঝরনা, সুইমিংপুল সদৃশ লেক, সবুজ ঘাসে আচ্ছাদিত লন ও ঔষধি গাছের বাগান এখানকার সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
গ্যাস ফিল্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে ফিল্ডের তদানীন্তন ব্যবস্থাপক (উত্পাদন) জামিল এসএ চৌধুরী ও বর্তমান ব্যবস্থাপক (ফিল্ড প্রশাসন) এটিএম নাছিমুজ্জামানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই ফলের বাগান স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ ব্যাপারে গ্যাস ফিল্ডের সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক আব্দুল আখের আউয়ালও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। গ্যাস ফিল্ডের আওতাধীন অব্যবহূত পাহাড়ের প্রায় ৭ একর এলাকা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে এই ফ্রুটস ভ্যালি। প্রতিবছর সরকার প্রদত্ত বৃক্ষরোপণের টাকা ব্যয়ে এই বাগান উন্নয়নের কার্যক্রম চলছে। ফ্রুটস ভ্যালি স্থাপনে অনন্য অবদানের জন্য এটিএম নাছিমুজ্জামান ২০১২ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকে ভূষিত হয়েছেন। তিনি জানান, ফ্রুটস ভ্যালির জন্য পাহাড় এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলে ক্যাবল কার চালু, দুষপ্রাপ্য গাছপালা ও পশুপাখি দিয়ে বাগানটিকে আরো মোহনীয় রূপ দেয়া সম্ভব। গত কয়েক বছরে মন্ত্রীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এসে এই ভ্যালি পরিদর্শন করে এর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। বাগানের গাছ এবং পাখিগুলোর যত্নের ব্যাপারে কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ অত্যন্ত আন্তরিক। গ্যাসফিল্ড কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সংরক্ষিত এলাকায় অবস্থিত ফ্রুটস ভ্যালির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় বলে তিনি জানান।