কারি অস্কার অ্যাওয়ার্ডে বাংলাদেশের জয় জয়কার

 
এবারও (মশলা জাতীয় খাবার) কারি অস্কার অ্যাওয়ার্ডে বাংলাদেশের রেস্টুরেন্টগুলোর জয়জয়কার। মোট ১৩টি অ্যাওয়ার্ডের মধ্যে এবার সাতটি বিভাগে বিজয়ী হন বাংলাদেশি কারি রেস্টুরেন্টের মালিকরা।
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে গত সোমবার  বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা এবং স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টায় লন্ডনের বেটারসি এভল্যুশনে অনুষ্ঠিত হলো ‘কারি অস্কার’ খ্যাত ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডস-২০১৪। এটি ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডসের দশম আসর।
এবার আজীবন সম্মাননা (লাইফ টাইম অ্যাওয়ার্ড) পান বাংলাদেশি কারি ব্যবসায়ী আলহাজ সামসুদ্দিন খান। তিনি ‘মহারানী’ রেস্টুরেন্ট-এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের কারি শিল্পে অনেক অবদান রাখেন। তিনি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি। এদিকে সরাসরি ভিডিও বার্তায় এবারের আজীবন সম্মাননার ঘোষণা দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ড্যাভিড ক্যামেরন। আর অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেসা মে। তেরসা মে তার বক্তব্যে বলেন, বৃটেনের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসা খ্যাত কারি ইন্ডাস্ট্রিকে এ পর্যন্ত নিয়ে আসার পেছনে অভিবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য। তবে এখন আর শুধু অভিবাসীদের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, বৃটেনেই এখন থেকে দক্ষ শেফ তৈরি করতে হবে। বৃটেনে কারি ইন্ডাস্ট্রির অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে এটি এখন সময়ের দাবি।
বৃটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়ে ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডসের প্রতিষ্ঠাতা এনাম আলী বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক খুব পুরনো ও বন্ধুত্বপূর্ণ। সেই সুবাদে কারি শিল্পের মধ্য দিয়ে বৃটেনের অর্থনীতিতে অবদান রাখার সুযোগ পেয়েছি আমরা।” কিন্তু বাংলাদেশে বৃটেনের ভিসা অফিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে এনাম আলী বলেন, “হুট করেই বাংলাদেশের ভিসা অফিস বন্ধ হয়ে গেল। ফলে বৃটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের ভিসা আদান-প্রদানের জন্য দৌঁড়াতে হচ্ছে ভারতে।” প্রয়োজনে ভিসা ফি বাড়িয়ে হলেও ঢাকায় আবার  ভিসা অফিস চালু করার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডসের প্রযোজক-পরিচালক জাস্টিন আলী।
আজীবন সম্মাননা ছাড়া অন্য ১২টি পুরস্কারের মধ্যে লন্ডন সেন্ট্রাল অ্যান্ড সিটি বিভাগে পুরস্কার জিতেছে দ্য সিনামন ক্লাব রেস্টুরেন্ট। লন্ডন সাবার্বস বিভাগে সাম্পান থ্রি উইলিং। সাউথ ইস্ট বিভাগে মালিকস, সাউথ ওয়েস্ট বিভাগে মিরিস্টিকা, নর্থ ইস্ট বিভাগে আগ্রা মিডপয়েন্ট, নর্থ ওয়েস্ট বিভাগে ব্লু টিফিন, মিডল্যান্ডস বিভাগে মেম সাব, ওয়ালস বিভাগে রসই ইন্ডিয়ান কিচেন এবং স্কটল্যান্ড বিভাগে লাইট অব বেঙ্গল।
এছাড়া বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে ক্যাজুয়াল ডাইনিং বিভাগে ডিসুম কভেন্ট গার্ডেন, নিউকামার বিভাগে ফাইভ রিভার্স এ লা কার্ট এবং বেস্ট ডেলিভারি বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে চিলি পিকল রেস্টুরেন্ট।  
২০০৫ সালে ‘ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডস’ চালু করেন বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী এনাম আলী এমবিই। যুক্তরাজ্যের মেইন স্ট্রিম মিডিয়া তথা কারি বিশ্বে এনাম আলীর পরিচিতি ‘কারি কিং’ হিসেবে। এবারের আয়োজনের স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ছিল জাস্টইট, ওটু, ইউরোফুড এবং কিংফিশার। আর পুরো আয়োজনটির টিভি পার্টনার ছিল কালারস ইন্ডিয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশে ‘ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডস-২০১৪’ এর গণযোগাযোগ পার্টনার হিসেবে কাজ করেছে ঢুলি কমিউনিকেশনস।