ট্রেন দুর্ঘটনা: তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত, ২টি তদন্ত কমিটি

জয়পুরহাটে তেলবাহী ট্রেন থেকে পড়ে ৫ ব্যক্তি নিহত ও ২৫ জন আহত হওয়ার ঘটনায় রেলওয়ের তিন নিরাপত্তা কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে রেলওয়ে এবং জয়পুরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জয়পুরহাট স্টেশন মাস্টার নুরল ইসলাম জানান, ট্রেনটি ৪টা ৫মিনিটে জয়পুরহাট ছেড়ে যাওয়ার পর রেলগেট এলাকায় ট্রেনের ভাকুয়াম ছেড়ে দেয় চোরাচালানীরা। এসময় ট্রেনের ড্রাইভার ঐ অবস্থায় ট্রেনটি চালিয়ে নিয়ে যায় আর এ কারণে ঐ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত ট্রেন যাত্রীরা জানান, জয়পুরহাট-পাচঁবিবির মাঝখানে শিমুলতলী রেলগেটে ট্রেনটি পৌঁছার পর ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে বগী বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসময় ড্রাইভার ব্রেক কষে দ্রুত ইঞ্জিন থামিয়ে দিলে বগিগুলো ইঞ্জিনের সাথে ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় দিনাজপুরের হিলির হৃদয়, সদরের খঞ্জনপুরের আজাহার আলী, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের মানিকের ছেলে জুয়েল এবং খালেক ও সাদেক নামে ৫জন নিহত হয়। আহতদের মধ্যে রয়েছে, সদরের শান্তিনগরের বাদল শেখ, দেবীপুরের  রবিউল, সোহেল, দিনাজপুরের বাসদেবপুরের খালেক, এমরান হোসেন। এছাড়াও আহতদের মধ্যে রয়েছে, সাদেক, খালেক, বাচ্চু, মজিদ। তবে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়ার কারণে সকলের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার রাতে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশগুলো তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে ৩ জন নিরাপত্তা কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। 
এ ঘটনার কারণ জানতে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) খোরশেদ আলমকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি এবং অপর দিকে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল জোনের এরিয়া অপারেটিং ম্যানেজার শাহ আলম তালুকদারকে প্রধান করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। 
ঐ দুর্ঘটনায় আহতদের কারো হাত কারো পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নিহতদের লাশ বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছানোর খরচ জেলা প্রশসনের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার কোন বিষয়ে কোন খবর পাওয়া যায়নি।