প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবি অধ্যাপক হাসান আজিজুল হকের বাসার বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় চোরেরা তার বাসার বিদ্যুত্ সংযোগের তার চুরি করে নিয়ে যায়। একই রাতে পার্শ্ববর্তী আরো তিনটি বাসার তার চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাউজিং সোসাইটি (বিহাস) এলাকায় বসবাস করেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক। বিহাস এলাকায় বসবাস করেন লন্ডনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত প্রফেসর সাইদুর রহমান খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ফায়েক-উজ্জামান, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মোজাফ্ফর হোসেন প্রমূখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। কিন্তু এলাকাটি একেবারেই অরক্ষিত। গত ১৫ নভেম্বর বিকালে বিহাসের একশ’ গজের মধ্যে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের প্রফেসর একেএম শফিউল ইসলাম লিলন। এছাড়া প্রায় প্রতিরাতে বিভিন্ন বাসা-বাড়ির বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়। চোরেরা মাদকসেবী বলে জানা যায়।
এ ব্যাপারে অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক বলেন, ‘বাসার বিদ্যুত্ সংযোগের তার কে বা কারা রাতের আধারে চুরি করে নিয়েছে, আমি জানি না। তবে যারা নেশাদ্রব্য গ্রহণ করে তারাই চুরি করতে পারে। বাসার মিটার থেকে বিদ্যুত্ সংযোগ নিতে ৮০ গজ তার প্রয়োজন হয়। এগুলো সবই তামার তার ছিলো। এখন বাসায় বিদ্যুত্ সংযোগ দিতে প্রায় তিন হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।’
নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করছেন কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করছি না। তবে এই এলাকায় চোর এবং আসবাবপত্র দুটোই নিরাপত্তাহীন। আসবাবপত্র চোরের জন্য আর চোর পুলিশের জন্য নিরাপত্তাহীন।
এ ব্যাপারে নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘শিক্ষকদের আবাসিক এলাকায় চুরির ঘটনা কাম্য নয়। ওই এলাকায় নয়জন গার্ড নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন। এরমধ্যে বৈদ্যুতিক তার চুরি হওয়ার কথা না। এতে গার্ডদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে এর সাথে কারা জড়িত খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।’