জেলা শহরের জয়দেবপুর বাজারস্থ তানভীর প্লাজার দোতলায় অবস্থিত জনতা ব্যাংক লিমিটেডের গাজীপুর কর্পোরেট শাখা থেকে ৬০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাত ১০টার পর কোন এক সময় ব্যাংকের টাকা লুটের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ব্যাংকের ৩ নিরাপত্তা প্রহরীকে পুলিশ আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন মাঃ নূরুল ইসলাম (৫০), মহিউদ্দিন (৪৭) ও মজিবুর রহমান (৪৫)।
জয়দেবপুর থানা পুলিশ ও ব্যাংক কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকের সামনে একটি দোকানে পুরাতন কাপড়ের ব্যবসা করতেন জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তি। পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে ওই ব্যক্তি টয়লেটে যাওয়া ও পানি পান করার কথা বলে রাত ১০টার দিকে প্রহরী নূরুল ইসলামকে কৌশলে ম্যানেজ করে দরজা খুলে ব্যাংকের ভিতর প্রবেশ করেন। পরে সাথে আনা ফলমুল ও খাবারের সাথে নেশাযুক্ত কিছু মিশিয়ে খাইয়ে নুরুল ইসলামকে অচেতন করে ব্যাংকের ভল্ট ভেঙ্গে ভেতরে থাকা ৬০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা লুট করেন। পরে ব্যাংকের পিছন দিকে জানালার গ্রিল কেটে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পুলিশের ধারণা, প্রহরীকে অচেতনের পর জাকির তার আরো সহযোগীদের ডেকে আনে। পরে তারা এক সাথে টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।
জয়দেবপুর থানা থেকে মাত্র অল্প দূরে বাজারের ব্যস্ততম স্থানে অবস্থিত একটি ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা লুটের ঘটনা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আতংকিত করে তুলেছে। ওই ভবনের মাত্র ১০-১২ গজ দূরে ন্যাশনাল ব্যাংকের একটি শাখা রয়েছে।
ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো:সোলাইমান জানান, নেশাযুক্ত খাবার খাইয়ে প্রহরী নুরুল ইসলামকে অচেতন করে দুর্বৃত্তরা ব্যাংকের ভিতরে প্রবেশ করে ভোল্ট ভেঙ্গে ৬০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।
ব্যাংকের অপর নিরাপত্তা প্রহরী মজিবুর রহমান জানান, সকাল ৮টার দিকে তিনি ডিউটিতে এসে ব্যাংকের দরজা বন্ধ দেখতে পান। রাতে ব্যাংকে দায়িত্বপালনকারী প্রহরী নূরুল ইসলামকে ডাকাডাকি করেও কোন সাড়া না পেয়ে তিনি ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার নূরুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। পরে তিনি জয়দেবপুর বাজার থেকে মিস্ত্রি এনে ব্যাংকের গেইটের তালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করেন। তিনি সেখানে রাতের শিফটের নিরাপত্তা প্রহরী নূরুল ইসলামকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। সেকেন্ড অফিসার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। পরে ব্যাংক কর্মকর্তারা এসে দেখতে পান ব্যাংকের ভোল্ট ভাঙ্গা এবং ভোল্টের ভিতরে থাকা ৬০ লাখ ৭৮ হাজার টাকার হদিস নেই। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জয়দেবপুর থানা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা প্রহরী মোঃ নূরুল ইসলামকে আটক করে গাজীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিত্সার পর সুস্থ হলে প্রহরী নূরুল ইসলামকে নিয়ে পুলিশ তার বাড়ি মহানগরীর কাউলতিয়ায় অভিযান চালায়।
জয়দেবপুর থানার ওসি খন্দকার রেজাউল হাসান জানান, নিরাপত্তা প্রহরী নূরুল ইসলামের সঙ্গে পুরাতন কাপড়ের ব্যবসায়ী জাকির হোসেনের দুই বছর ধরে সম্পর্ক। তারা জমি বেচা কেনার ব্যবসা করতো। গত ১৫ দিন আগে ব্যাংকের সামনে দু’তলায় একটি দোকান ভাড়া নেয় জাকির। রাতে প্রশ্রাব করার কথা বলে সে ব্যাংকের ভিতরে প্রবেশ করে। এ ঘটনায় ৩ নিরাপত্তা প্রহরীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
রবিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, দুর্বৃত্তরা টাকা লুট করার আগে ব্যাংকের ভিতরে ইয়াবা সেবন, বিয়ার ও সিগারেট পান, ডালিমসহ বিভিন্ন ফল ও চকলেট খেয়েছে। ব্যাংকটি একটি কর্পোরেট শাখা হলেও এতে কোন সিসি ক্যামেরা ছিল না। ভবনের পশ্চিম পাশের জানালাগুলোও দুর্বল লোহার তৈরি। ফলে দুর্বৃত্তরা সহজেই জানালার একটি পার্ট খুলে নির্বিঘ্নে ব্যাংকের ৬০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।