বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে পাকিস্তানকে দেখা যেতে পারে। কেননা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন পাকিস্তানের প্রতি ইঙ্গিত করে গতকাল শনিবার জানিয়েছেন তিনি সাফ অঞ্চলের কোন একটি দেশকে আনতে চান। তবে পাকিস্তান ফেডারেশনের সাথে এ ব্যাপারে বাফুফের এখনও কথা হয়নি।
বাফুফে সভাপতি বাংলাদেশকে অন্তত সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠাতে চান। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ার মতো শক্তিধর দলের বিরুদ্ধে স্বাগতিকদের পক্ষে পেরে উঠা কঠিন হবে। সাফ অঞ্চলের কোন ফুটবল দেশ থাকলে বাংলাদেশের লড়াইটা উপভোগ্য হবে। বঙ্গবন্ধু কাপে পাকিস্তান আসবে কিনা তা জানা যায়নি। তবে বাফুফে কর্মকর্তারা পাকিস্তানের কথা ভাবছেন। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, বাহরাইন এবং লাওস এ টুর্নামেন্টে খেলবে বলে আগে জানানো হয়েছিল। সর্বশেষ জানা গেল লাওসের পরিবর্তে পাকিস্তানকে নেয়া হতে পারে।
বাফুফের সভাপতি চারদিন হাসপাতালে থাকার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে গতকাল বিকালে বাফুফে ভবনে সংবাদ মাধ্যমকে এও জানান যে জাতীয় দলের বিদেশি কোচের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কিছু দিন আগে স্লোভেনীয় এক কোচের সাথে আলোচনার পর তাকে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছিল বাফুফে। তাকে শুধু দুই মাসের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন সালাহউদ্দিন।
কিন্তু স্লোভেনীয় কোচ চড়া পারিশ্রমিক চেয়েছেন বলে বাফুফে তাকে নিয়ে আর ভাবছে না। স্লোভেনীয় কোচ নিজে, ফিজিও এবং ট্রেইনার বাবদ মাসে ৬০ হাজার ডলার পারিশ্রমিক দাবী করেছিলেন। কাজী সালাহউদ্দিন বললেন, ‘ডাচ কোচ ক্রুইফের চেয়েও বেশি পারিশ্রমিক চাইলেন স্লোভেনীয় কোচ। ৬০ হাজার ডলার চায় মাসে।’ তারপরও তিনি বলেন, ‘দেখি বিদেশি কোচ হয়েও যেতে পারে।’ অবশ্য বাফুফের একটি সূত্র জানিয়েছে জাতীয় দলের পরবর্তী কোচ হতে পারেন জাপানি।
কোচ সাইফুল বারী টিটু বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল বিকালে টিটুর সাথে বাফুফে সভাপতির বৈঠক হয়। সেখানে বিদেশি কোচ নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পায় বলে জানা গেছে। কোচ টিটুও জাতীয় দলের জন্য বিদেশি কোচ নিয়োগের অনুরোধ করেছেন। এ প্রসঙ্গে কাজী সালাহউদ্দিন বলেন, ‘দেশি খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশি কোচই প্রয়োজন। দেশি কোচরা খেলোয়াড়দের পরিচালনা করতে পারছেন না। যেভাবে চালাতে চান সেভাবে হচ্ছে না।’ তার কথায় স্পষ্ট, দলের অনেক নিয়ম-কানুন মানছেন না খেলোয়াড়রা। বিদেশি কোচ আসলে সবাই একটু বেশি মনযোগী থাকেন। যেটা দেশি কোচের বেলায় দেখা যায় না।
এদিকে বঙ্গবন্ধু কাপের খেলাগুলোর একটি অংশ সিলেটে হতে যাচ্ছে। বাফুফে রাজশাহীর বিষয়টি এর আগে বিবেচনা করলেও কাল বাফুফের সভাপতি জানিয়েছেন সেটা এখন নয়। কারণ রাজশাহীতে এখন স্টেডিয়াম সংস্কারের কাজ চলছে। হোটেল আবাসন, যাওয়া-আসাও ব্যাপারটিও খুব সাবলীল নয়।