রাবি শিক্ষিকাকে অশ্লীল ছবি পাঠিয়ে চাঁদা দাবি, যুবক গ্রেফতার

 
 
 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষিকাকে অশ্লীল ছবি পাঠিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে যুবক আমজাদ হোসেন রাসেল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র্যাব। রবিবার মধ্যরাতে নগরীর মতিহার থানার বিনোদপুর থেকে র্যাব-৫ রাজশাহীর একটি অপারেশন দল তাকে গ্রেফতার করে। রাসেল নেত্রকোণা জেলার বারহাটা থানার তেলকুড়ি গ্রামের শহিদুল হকের ছেলে। তিনি রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নকালে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয় বলে জানা গেছে।
রাসেল অশ্লীল ছবি ছড়ানোর হুমকি দিয়ে ঐ শিক্ষিকার কাছে চাঁদা দাবি করেন। গ্রেফতারের সময় তার নিকট থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে র্যাব-৫ এর উপ-অধিনায়ক মেজর শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
র্যাব জানায়, আমজাদ হোসেন রাসেল রাবির এক শিক্ষকের অধীনে কাজ করতেন। এক সময় পেশাগত কারণে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সম্পর্কের অবনতির পর রাসেল প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের স্ত্রীকে (যিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা) অশ্লীল ছবি সম্বলিত পার্সেল পাঠিয়ে এবং মোবাইলে ফোন করে ও ম্যাসেজ পাঠিয়ে চাঁদা দাবি করেন। পরবর্তীতে মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ই-মেইল আইডি ও পাসওয়ার্ড পাঠায়, যাতে অশ্লীল ছবি আপলোড ছিল। সে উক্ত অশ্লীল ছবি এডিট করে উক্ত শিক্ষিকার সামাজিক মর্যাদাহানির হুমকি দিয়ে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এ ঘটনায় ঐ শিক্ষিকা রবিবার রাতে নগরীর মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং র্যাব-৫ কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগ প্রাপ্তির পর র্যাব অপরাধীর অবস্থান শনাক্ত ও উক্ত কাজে ব্যবহূত মোবাইল এবং অশ্লীল  ছবি ও একটি ল্যাপটপসহ গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল র্যাবের কাছে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ স্বীকার করেছে বলে র্যাব সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, ইতোমধ্যে রাবি শিক্ষিকার জিডিটি তথ্য প্রযুক্তির আইনের মামলায় রূপান্তরিত করা হয়েছে। ঐ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে রাসেলকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।