সুন্দরবনে দূষণ, ব্যবসায় বিরূপ প্রভাবের আশংকা

শেলা নদীতে ট্যাঙ্কারের বিপুল পরিমাণ ফার্নেস অয়েল ছড়িয়ে পড়ার পর ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ সুন্দরবনের পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যে উপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তেলবাহী ট্যাঙ্কার দুর্ঘটনার পর মংলা-জয়মনি-শেলা রুটে নৌ-পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় মংলা বন্দরে অবস্থানরত জাহাজ থেকে মালামাল খালাস করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে নৌরুট চালু করা না হলে বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাবার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার একটি ট্যাঙ্কারের ধাক্কায় এমটি সাউদার্ন স্টার সেভেন সাড়ে তিন লাখ লিটার ফার্নেস অয়েলসহ নদীতে ডুবে যায়। এতে সুন্দরবনের একটি বড় অংশজুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়ায় মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দেয়। ঘটনার পর সরকার মংলা বন্দর সংলগ্ন মংলা-জয়মনি-শেলা নৌরুটে সকল নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
মংলা বন্দরের সূত্র জানায়, বন্দরে বর্তমানে ৮টি সমুদ্রগামী জাহাজ ১ লাখ ৭০ হাজার টন পণ্য নিয়ে অবস্থান করছে। উল্লেখযোগ্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে– বর্তমান বোরো ধানের ব্যবহারযোগ্য ৯৬ হাজার টন ইউরিয়া সার, ৩১ হাজার টন টিএসপি এবং ২৩ হাজার টন এমওপি সার। এছাড়া ২০ হাজার টন ক্লিংকার খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। নৌরুট বন্ধ থাকার কারণে এসব পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে না।  মংলা বন্দর ব্যবহারকারী সমন্বয় কমিটির মহাসচিব অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, খুলনা অঞ্চল লবণ মিলের একটি জোন। এর কাঁচামাল চট্টগ্রাম থেকে আমদানি করা হয়। বর্তমানে লবণের কাঁচামাল সংগ্রহের মৌসুম চলছে। নৌরুট বন্ধ থাকার কারণে এ পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে না। ফলে মিলগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সিলেট থেকে বালি আসতে পারছে না। বাংলাদেশ-ভারত প্রোটোকলের জাহাজ ভারত থেকে পণ্য আনতে পারছে না। ঢাকা-বরিশাল রুটে শতাধিক নৌযান আটকে আছে। তেলের ট্যাঙ্কার আসতে না পারায় দু’-একদিনের মধ্যে জ্বালানি তেলের সঙ্কট দেখা দেবে। তিনি বলেন, এক অশুভ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মংলা বন্দর ধ্বংসের পাঁয়তারা করা হচ্ছে।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর হাবিবুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, সুন্দরবনকে যেমন আমাদের রক্ষা করতে হবে, তেমনি মংলা বন্দরকে সচল রাখতে হবে। এ দুটি সম্পদ আমাদের জাতীয় অর্থনীনিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে মংলা-জয়মনি-শেলা নৌরুট দ্রুত চালুর দাবিতে গতকাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপ। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মংলা বন্দর ব্যবহারকারী সমন্বয় কমিটির মহাসচিব অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব ওয়াহিদুজ্জামান পল্টু, কাজী গোলাম ফারুক, চিত্তরঞ্জন সাহা, খুরশিদ আলম কাগুজি, নূরুল ইসলাম খান, অসীম সাহা প্রমুখ।

অপরদিকে সুন্দরবনকে পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে খুলনা উন্নয়ন ফোরাম গতকাল পিকচার প্যালেস মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। এতে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের চেয়ারম্যান শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন। এছাড়া একই সময়ে সুন্দরবন বাঁচাও আন্দোলন বাংলাদেশের গর্ব ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে সুন্দরবনকে বাঁচাতে স্থানীয় জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে।