নভেম্বরে অতিমূল্যায়িত শেয়ারের প্রতি আগ্রহ ছিল বেশি

 
পুঁজিবাজারে গেল নভেম্বরে কোম্পানির আয়ের তুলনায় উচ্চ দামের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি। ফলে এসব ঝুকিপূর্ণ শেয়ারের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। গেল মাসে দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে আটটিরই আয়ের তুলনায় দাম অনেক বেশি। এ কোম্পানিগুলোর পিই রেশিও ৩০-এর বেশি। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণত কোনো কোম্পানির পিই রেশিও ২০-এর বেশি হয়ে গেলে সে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) উচ্চ পিই রেশিও সম্পন্ন কোম্পানির দাম তরতর করে বেড়ে যাচ্ছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যে দেখা গেছে, গত মাসে দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড। এ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৭৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অথচ চলতি ২০১৪ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আয়ের ভিত্তিতে নর্দান জুটের পিই রেশিও ২৬৭। আর ২০১৪ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আয়ের ভিত্তিতে পিই রেশিও ১৭৯। দরবৃদ্ধির তৃতীয় অবস্থানে থাকা জিএসপি ফাইনান্সের দাম বেড়েছে সাড়ে ২৬ শতাংশ। এ চলতি বর্ষের তৃতীয় প্রান্তিকের আয়ের ভিত্তিতে এ কোম্পানির পিই রেশিও ২১। দাম বৃদ্ধির শীর্ষ দশে থাকা জেমিনি সি ফুডের দাম বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ। ২০১৪ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের আয়ের ভিত্তিতে কোম্পানিটির পিই রেশিও ১৫৮। গেল মাসে ফার্মা এইডসের দাম বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। ২০১৩ সালের আয়ের ভিত্তিতে কোম্পানিটির পিই রেশিও ১৬০। তবে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের আয়ের ভিত্তিতে পিই রেশিও কমে ২৩ তে দাঁড়িয়েছে। বিডি থাই অ্যালমুনিয়ামের দাম বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকের আয়ের ভিত্তিতে বিডি থাই অ্যালুমুনিয়ামের পিই রেশিও ৪৭। সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের দাম বেড়ে সোমিট অ্যালায়েন্স পোর্টের দাম বেড়েছে ১৯ শতাংশ। ২০১৩ সালের আয়ের ভিত্তিতে এ কোম্পানির পিই রেশিও ৩৪। এ ছাড়া, দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে থাকা সোনালী আঁশের পিই রেশিও ১৮৭ (২০১৪ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের আয়ের ভিত্তিতে)। আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের পিই রেশিও ৫৩ (২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকের আয়ের ভিত্তিতে)। আজিজ পাইপসের পিই রেশিও ১৭৫ (২০১৩ সালের আয়ের ভিত্তিতে)।
ডিএসইর তথ্যে দেখা গেছে, গেল নভেম্বরে লেনদেনের ক্ষেত্রে তেল ও জ্বালানি খাত সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিল। লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির ৬টিই ছিল জ্বালানি খাতের। কোম্পানিগুলো হলো— যমুনা অয়েল, ঢাকা ইলেকট্রিক ডায়নামিকস লিমিটেড (ডেসকো), বরকতুল্লাহ ইলেক্ট্রো ডায়নামিকস, সাইফ পাওয়ারটেক, মবিল যমুনা এবং শাহজীবাজার পাওয়ার। এ মাসে যমুনা অয়েল কোম্পানি ঘিরে লেনদেন হয়েছে ৩৯৭ কোটি টাকা, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ। এ ছাড়া, ডেসকোতে লেনদেন হয়েছে ২৯৭ কোটি টাকা, বরকতুল্লাহ ঘিরে লেনদেন হয়েছে ২৭৫ কোটি টাকা, সাইফ পাওয়াটেক ঘিরে লেনদেন হয়েছে ২৩২ কোটি টাকা, মবিল যমুনা ঘিরে লেনদেন হয়েছে ২২২ কোটি টাকা এবং শাহজীবাজার পাওয়ার কোম্পানি ঘিরে লেনদেন হয়েছে ২২১ কোটি টাকা।