ডেন্টাল টেকনোলজি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ আটক ২০ জন

রাজধানীতে বিএসসি ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে  জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশের সংর্ঘষ হয়েছে। চার দফা দাবিতে গতকাল বুধবার ছিল তাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি। পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সংর্ঘষে ২০ জন আহত হয়। পুলিশ ২০ শিক্ষার্থীকে  আটক করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পূর্বঘেষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা সাড়ে এগারটায় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা মন্ত্রণালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ তাদের বাধা দিলে বাক-বিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায় শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে। পরে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় প্রেসক্লোবের সামনে রাস্তায় প্রায় পৌনে এক ঘন্টা যানচলাচল বন্ধ থাকে। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
রমনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শিবলী নোমান জানান, শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে তাদেরকে সেদিকে যেতে নিষেধ করা হলেও তারা তা অমান্য করে। একপর্যায় পুলিশের সঙ্গে সংর্ঘষে লিপ্ত হয়। তারা এসময় বিএম ভবনে হামলা ও কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামানে পানি ছিটিয়ে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ভাংচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থলে ২০ জনকে আটক করে। শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়া হবে।
আন্দোলনে অংশ নেয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ। আমরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে দাবিগুলো তুলে ধরতেই এ কর্মসূচি দিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ অর্তকিতে হামলা চালিয়ে আমাদের কর্মসূচি পন্ড করে দেয়। তিনি দাবি করেন, হামলায় কমপক্ষে ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। পুলিশ ২৫/৩০ জনকে আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়।
তারা আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি দাবি করে বলেন, আগামী ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের দাবি পূরণ না হলে ২৪ ডিসেম্বর  শাহবাগে সমাবেশ করবেন তারা। সেখান থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ইনস্টিটিউট অব হেল্থ টেকনোলজির (ডেন্টাল) শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবিতে গত কিছুদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। দাবির মধ্যে রয়েছে-পাস করার পর প্র্যাক্টিস রেজিষ্ট্রেশন, সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ, বর্তমান পাঠ্যসূচি ঠিক করে ভর্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা এবং বর্তমান কোর্সের মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি।