অণুগল্প

ঐ তো সেই প্রজাপতি

ওকে ভালো লেগেছিল সেই কিশোরবেলা থেকেই। ও যখন একটি গাঁদাফুলে ঘ্রাণ নিচ্ছিল তখন প্রথম চোখে পড়ে আমার। গাঁদা ফুলের হলুদ রং আর ওর গায়ের হলুদাভ মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। আমি গাঁদাফুল তুলতে গিয়ে ভুল করে ওর ডানা জাপটে ধরেছিলাম। ওর মোহনীয় রূপে এতই মুগ্ধ  হয়েছিলাম যে চিরজীবন ধরে রাখতে ওকে খাঁচায় বন্দি করে রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রজাপতি তো খাঁচায় বন্দি রাখা যায় না! ও একদিন অজান্তে কোথায় যেন চলে গেল। এরপর অনেক খুঁজেছি ওকে, কিন্তু কোথাও পাইনি।

একদিন হঠাত্ করেই ঢাকা বোটানিক্যাল গার্ডেনের এক ফুলের বাগানে দেখলাম ওকে। পাশে ওর মতো অনেকগুলো প্রজাপতি। মফস্বলের এই প্রজাপতিটি ঢাকা শহরে এল কী করে? কৈশোরের সেই প্রজাপতিটিকে চিনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। কাছে গিয়ে ভালো করে ওকে নিরীক্ষা করলাম। আমি চিনতে পারলাম—কৈশোরের সেই প্রজাপতিটিকে, যাকে খাঁচায় বন্দি করে রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ও আমাকে চিনল না। চিনবেই বা কেমনে? একটি প্রজাপতি কি একজন মানুষকে মনে রাখে কখনো?

তবু আমি প্রায় প্রতিদিন বিকেলে বোটানিক্যাল গার্ডেনে যাই, যদি দেখা মেলে প্রজাপতিটির!