ফকিরহাটে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ২৪

বাগেরহাটের ফকিরহাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ইমরান হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যও আহত হন। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ডাকবাংলোর মোড় ও পুরাতন রেল স্টেশন এলাকায়। এসময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি অফিস এবং মত্স্য ডিপোসহ ৩টি দোকান ও ১২টি  মোটর সাইকেল ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ এবং এসিড নিক্ষেপের মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শিরা জানিয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে আরজু ও আলাউদ্দিন নামে দুজনের গায়ে এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে। এদুজন ছাড়াও গুরুতর আহত এনামুল, সোহাগ, দারা, ডলার, মো. ইমরানকে উন্নত চিকিত্সার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সদর ইউপি চেয়ারম্যান শিরিন আক্তার কিসলু ও আওয়ামী লীগ নেতা আসলাম মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ও খান জাহিদ হাসান হত্যা মামলার প্রধান আসামি হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতের একটি অংশ অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। তারা আওয়ামী লীগ অফিসে থাকা বঙ্গবন্ধুর ছবিও ভাংচুর করেছে। এ অভিযোগ অস্বীকার করে হারুন অর রশিদ বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক। প্রতিপক্ষরা তাদের অপরাধ ঢাকতে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছে। তিনি উপরোক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

ফকিরহাট থানার ওসি মো. শমসের আলী জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডাক বাংলোর মোড়ে হারুনের সমর্থক রুবেলের সঙ্গে শিরিনের সমর্থক শুভর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়ে। এ খবর উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফের সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি।