নিরাপত্তা কর্মীদের সহায়তায় ট্রেনে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান!

দেশের উত্তরাঞ্চলে ট্রেনে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান জমজমাট হয়ে উঠেছে। নিরাপদ রুট হিসেবে চোরাচালানিরা এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তা কর্মীরা ট্রেনে যাত্রীদের নিরাপত্তা দেবে কি, তারা  তাদের নিয়োগকৃত লাইনম্যান দ্বারা চোরাচালানীদের নিকট থেকে টাকা তুলছে। প্রতিদিন রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা তিতুমীর, বরেন্দ্র, উত্তরা, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সীমান্ত, রূপসা, খুলনা মেইল, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর, দ্রুতযান, তিস্তা ট্রেন হিলি ও বিরামপুরে পৌঁছা মাত্র ট্রেনের হুজপাইপ খুলে দিয়ে কোটি কোটি টাকার মাদক, অস্ত্রসহ বিভিন্ন প্রকার পণ্য ট্রেনে তোলা হয়। রেলওয়ের নিরাপত্তা কর্মীদের বিরুদ্ধে এসব চোরাচালনী পণ্য পাহারা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। যেমন হিলি থেকে বিরামপুর, ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর, সৈয়দপুর, রংপুর, বিরামপুর থেকে জয়পুরহাট সান্তাহার, নাটোর, ঈশ্বরদী, হিলি থেকে আন্তঃনগর ও লোকাল এবং মেইল ট্রেনগুলিতে ভারতীয় পণ্য বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসব পণ্য পরিবহনে বিভিন্ন সংস্থার নামে তোলা হচ্ছে টাকা।

অভিযোগ উঠেছে, সীমান্তের ওপার থেকে চোরাচালানীরা এপারে এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের মাধ্যমে ট্রেনে অন্যান্য পণ্যের আড়ালে অস্ত্র পাচার করছে। সম্প্রতি ফুলবাড়ী ও জয়পুরহাট বিজিবির সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ট্রেনগুলিতে অভিযান চালাতে গেলে রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্মীরা তাদেরকে বাধা দেন। এতে বিজিবি সদস্য ও রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এমন ঘটনা মাঝে মাঝেই ঘটছে। রেলওয়ের কতিপয় নিরাপত্তা কর্মী চোরাচালানের সাথে জড়িত বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চোরাচালানী জানিয়েছে। ট্রেনের আসন, টয়লেট ও ছাদের স্ক্রু খুলে সেখানে অবৈধ মাল ও অস্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়। এতে ট্রেনেরও ক্ষতি হচ্ছে।
বর্তমান রেলওয়ে ভ্রমণে যাত্রীরা নিরাপত্তা পাচ্ছেন না। কারণ যাত্রীরা নিরাপত্তা কর্মীদের চোরাচালানীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি রেলওয়ে গার্ড থেকে শুরু করে কেউ এদের বিরুদ্ধে কথা বলতে চায় না। পার্বতীপুর থেকে জয়পুরহাট পর্যন্ত টিকিট পরিদর্শকরা কোন টিকিট আছে কি না তা যাত্রীদের ও চোরাচালানীদের কাছে দেখেন না। ট্রেনগুলিতে এ অবস্থা চলতে থাকলে যাত্রী সংখ্যা যেমন কমে যাবে তেমনি রাজস্ব হারাবে সরকার।
এ ব্যাপারে পার্বতীপুর জিআরপির ওসি একেএম লুত্ফর রহমান জানান, এখান থেকে ৫টি ট্রেন রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকায়  যাতায়াত করে। ৫টি ট্রেনের মধ্যে ২টি ঢাকাগামী দ্রুতযান ও খুলনাগামী রকেট ট্রেনটি পার্বতীপুর রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণে। বাকি ৩টি রাজশাহীগামী তিতুমীর, বরেন্দ্র এবং খুলনাগামী সীমান্ত ট্রেনটি সৈয়দপুরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, লোকবলের অভাব ও সমন্বয়ের অভাবে চোরাচালান রোধ করা যাচ্ছে  না। তবে তাদের চেষ্টার   কোন ত্রুটি নেই। তারা জনবলের সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য সৈয়দপুরে জিআরপির এসপি’র সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
সৈয়দপুর জিআরপির ওসি সাজু মিয়া বলেন, সম্প্রতি আমি পার্বতীপুর থেকে সৈয়দপুরে বদলী হয়ে এসেছি। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। এ ব্যাপারে আপনি যা জানেন, আমিও তাই জানি।

এ ব্যাপারে ২৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জাহিদুর রশিদ ইত্তেফাককে জানান, বিজিবি ট্রেন তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে। তবে জিআরপি পুলিশ প্রায়ই বিজিবির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে থাকে। তাতে করে তল্লাশি কাজ মাঝে মাঝে ব্যাহত হয়।