মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে গত ক’দিন বেশ একটা বিপাকেই ছিলেন জাতীয় দলের পেসার রুবেল হোসেন। তবে, ক্রিকেটের বাইরের জীবন নিয়ে এখন খুব একটা ভাবতে চাইছেন না তিনি। সকল ভাবনা কেবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করেই।
বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে আগামী ফেব্রুয়ারি। ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত এই টুর্নামেন্টের জন্য ৩০ সদস্যের দল এরই মধ্যে ঘোষণা করে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অপেক্ষা এবার ১৫ সদস্যের দল ঘোষণার। সেটাও জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।
রুবেল সেই ১৫ সদস্যের দলে জায়গা পাওয়া ব্যাপারে আশাবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমি আশা করছি, ১৫ সদস্যের দলে থাকতে পারব। জিম্বাবুয়ে সিরিজে মোটামুটি ভালই পারফরম্যান্স হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগে বেশ কিছু ম্যাচে খেলেছি। সেখানেও বেশ ভাল বল হয়েছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের ওপর। প্রিমিয়ার লিগের সুপার লিগে ভাল কিছু করার চেষ্টা থাকবে। সেটা করতে পারলে জাতীয় দলে জায়গাটা পাকাপোক্ত হবে।’
রুবেলদের এখনকার অনুশীলনটা অবশ্য ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের সুপার লিগকে সামনে রেখে।
রবিবার মিরপুরে দুপুর আড়াইটায় লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে অনুশীলন করেন তিনি। তবে, এতো কিছুর বাইরে দৃষ্টিটা যে বিশ্বকাপের দিকেই রাখছেন সেটা বোঝা গেল তার কথাতেই, ‘আমার লক্ষ্য অবশ্যই বিশ্বকাপ। প্রত্যেক খেলোয়াড়ই চায় জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে। আমিও চাই। সুযোগ পেলে অবশ্যই চেষ্টা থাকবে ভাল কিছু করার।’
বিশ্বকাপের এবারের আসরটা এবার বাংলাদেশের জন্য একটু বিরুদ্ধে কন্ডিশনে অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষ করে পেস আর বাউন্সের জন্য বলা হয় অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন পেসারদের জন্য আদর্শ। সেজন্য অনুশীলনে বাড়তি ঘাম ঝড়াচ্ছেন রুবেলরা।
রুবেল এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের উইকেটে বাউন্স একটু বেশি। সেখানে পেসারদের ভূমিকা বেশি থাকবে। তাদের সফলতা-ব্যর্থতার উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। আমারও সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে; আর বিশ্বাস করি সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে পারব। আগামী মাসে ক্যাম্প শুরু হবে সেখানে আমার প্রস্তুতিটা যেমনটা হওয়ার দরকার, তেমটাই হবে।’
১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করার পর বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের ক্যাম্প শুরু হবে আগামী ১২ জানুয়ারি থেকে। এরপর ২৪ জানুয়ারি দল ঢাকা ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে রওনা দেবে। বিশ্বকাপের আগে সেখানে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ম্যাচ দুটিতে প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে থাকবে পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ড। আইসিসির এই সূচীর বাইরে আরও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের কথা ভাবছে বিসিবি। তবে, সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।