চৌদ্দগ্রাম বিসিক শিল্পনগরীতে তীব্র গ্যাস সঙ্কট

গ্যাস সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বিসিক শিল্পনগরীতে পণ্য উত্পাদন। সংশ্লিষ্ট দফতরে বার বার আবেদন করেও সমাধান হয়নি। সর্বশেষ গত ১৭ ডিসেম্বর গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আবেদন কুমিল্লা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি জমা দেয়া হয়েছে। চৌদ্দগ্রাম বিসিক শিল্প কারখানা মালিক সমিতির সভাপতি আক্তার হোসেন পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত আবেদনটিতে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকও সুপারিশ করেছেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, চৌদ্দগ্রাম বিসিক শিল্পনগরীতে বরাদ্দ ৮৩ প্লটের মধ্যে শিল্প ইউনিট রয়েছে ৬৯টি। এর মধ্যে পণ্য উত্পাদন করে ৫৩টি কারখানা। নিষ্ক্রিয় রয়েছে ৪টি। নির্মাণাধীন আছে ১২টি। শিল্পনগরীতে গ্যাস সংযোগের পর ২০০৫ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক পর্যায়ে ছিল। কিন্তু আকস্মিকভাবে একই বছরের নভেম্বর থেকে গ্যাসের চাপ হ্রাসের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ওই সময় বিভিন্ন শিল্প-কারখানার মালিকগণ গ্যাসের চাপ হ্রাসের বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। বাখরাবাদ থেকে বিভিন্ন সময়ে জিএম, ডিজিএম, ম্যানেজার ও প্রকৌশলী পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা কারাখানাগুলো পরিদর্শনে আসেন।

তবে বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষ হতে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধির জন্য কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। চাহিদার তুলনায় গ্যাসের চাপ অত্যধিক কম হওয়ায় প্রতিটি কারখানার উত্পাদন অর্ধেকের নিচে নেমে আসে। প্রতিটি কারখানা ২০০৫ সালের নভেম্বর থেকেই লোকসান দিচ্ছে। ব্যাংক লোন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত কারখানাসমূহ লোকসানের কারণে ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না। কারখানাগুলো ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং হচ্ছে। বেশ কয়েকটি কারখানা যে কোন সময় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।