রিয়ালে যোগ দেবার ইচ্ছা কখনই ছিল না: জাভি

 

 বার্সেলোনার অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জাভি বলেছেন, এবারের গ্রীষ্মে কাতালান ক্লাবে থেকে যাবার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। একইসাথে তিনি আরো দাবী জানিয়েছেন তিনি কখনই রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেবার বিষয়টি বিবেচনা করেননি।


এবারের মৌসুমের শুরুতেই ক্যাম্প ন্যু ছেড়ে যাবার প্রায় দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছিলেন ৩৪ বছর বয়সী সাবেক এই স্প্যানিশ তারকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোচ লুইস এনরিকের কারনে তার আর কাতালান ক্লাব ছাড়া হয়নি। এখনো ক্লাবে তার প্রয়োজন আছে বলেই এনরিকে তাকে আশ্বস্ত করেছেন। দলে নিজের জায়গা ধরে রাখা বেশ কঠিন মেনে নিয়েও সাবেক এই স্প্যানিশ সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার জানিয়েছেন এবারের মৌসুম শেষ হবার পরেও ফুটবল ছাড়ার কোন ইচ্ছা তার নেই। তবে শেষ দল হিসেবে রিয়ালে যোগ দিতে পারলে বিষয়টি মন্দ হবে না বলেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমে তিনি বলেছেন,‘বার্সেলোনায় আমি খুব ভাল আছি। মাদ্রিদে গেলে আমি খুশী হতে পারতাম না। আমি বার্সেলোনার ছেলে, এটাই সত্যি। আমি কারো সাথে প্রতারনা করতে পারিনা। যেখানে আমার জন্ম সেখানেই থাকার জন্য আমি সবসময়ই স্বপ্ন দেখেছি। এক্ষেত্রে আমি বেশ সৌভাগ্যবান। ফুটবল আমার জীবন, বার্সেলোনা ছেড়ে যাবার কোন ইচ্ছাই আমার নেই। এখানে থেকেই ক্যারিয়ার শেষ করতে চাই। এবারের গ্রীষ্মেই আরো এক বছরের জন্য আমার সাথে চুক্তি হয়েছে। এখন আমি এখানে আরো বেশী স্বস্তিতে আছি। যতদিন সম্ভব আমি খেলা চালিয়ে যেতে চাই। এখনো ফুটবল ছাড়ার কোন পরিকল্পনা করিনি। বর্তমানে ক্লাবে অনেক নতুন খেলোয়াড় যোগ দিয়েছে। ক্লাবের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে দলকে শক্তিশালী করা। এমনকি এজন্য যদি আমাকে বেঞ্চে বসে থাকতে হয় তবু কোন অসুবিধা নাই।’
এবারের মৌসুমে লুইস এনরিকের অধীনে বার্সেলোনা নিজেদের ধারাবাহিক ফর্ম ধরে রাখতে পারেনি। এর আগে জেরার্ডো মার্টিনোর অধীনেও তাদের হতাশাজনক মৌসুম কেটেছে। যদিও ২০১৫ সালে নিজেদের ফিরিয়ে আনার ব্যপারে আত্মবিশ্বাসী কাতালানরা। তবে জাভি মনে করেন ২০০৮-২০১২ সাল পর্যন্ত পেপ গার্দিওলার অধীনে বার্সেলোনার যে মান ছিল তা ফিরিয়ে আনা কঠিন। তিনি বলেন, গার্দিওলার যুগ ছিল অসাধারণ। এরপর টিটোর অধীনে আমরা প্রতিযোগিতা টিকে ছিলাম। গত বছর আমরা কোন শিরোপা জিততে পারিনি। অন্যান্য দলগুলো যেহেতু আমাদের আবিষ্কার করে ফেলেছে তাই গার্দিওলার যুগের অর্জন পুনরায় ফিরিয়ে আনা কষ্টকর। তাই সেই ধরনের উপভোগ্য মুহূর্তগুলো ফিরিয়ে আনাও কঠিন।
অবসরের পরে নিজের ভবিষ্যত নিয়ে এখনই কিছু ঠিক করেননি এই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার। তবে যেকোন ভাবেই হোক ফুটবলের সাথে নিজেকে জড়িত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।