করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয়ের নামে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান জঙ্গি বা সন্পাসে অর্থায়ন করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থায়নের পর এ ধরনের সন্দেহ হলেও তাত্ক্ষণিকভাবে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীতে জানাতে হবে। এ ছাড়া, কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা সিএসআর থেকে কোনো অর্থ নিতে পারবে না। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সিএসআর কার্যক্রমের অর্থ ব্যয় বিষয়ে নির্দেশিত নীতিমালায় এ সব কথা বলা হয়।
নীতিমালা অনুযায়ী, একটি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তার সিএসএর কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের ৩০ শতাংশ শিক্ষাখাতে এবং ২০ শতাংশ স্বাস্থ্য ও চিকিত্সা খাতে ব্যয় করতে হবে। বাকি অর্থ তাত্ক্ষণিক দুর্যোগ মোকাবিলা, পরিবেশবান্ধব টেকসই জীবনশৈলী গ্রহণ, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ, খেলাধুলা ও সুবিধাবঞ্চিতদের বিনোদন, অগ্নি নির্বাপনী সংস্থার মতো জীবন রক্ষাকারী সংস্থার প্রযুক্তির উন্নয়নসহ নির্দিষ্ট কিছু খাতে ব্যয় করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন ব্যাংকিং অ্যান্ড সিএসআর বিভাগ থেকে এই নীতিমালা সার্কুলার আকারে জারি করে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের পাঠানো হয়েছে। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদিত সিএসআর নীতিমালা অনুযায়ী বার্ষিক সিএসআর কর্মসূচী প্রণয়ন করতে হবে এবং প্রধান কার্যালয়ে গঠিত আলাদা একটি সিএসআর ইউনিটের মাধ্যমে এটা বাস্তবায়ন করতে হবে। কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদি হলে প্রয়োজনে একটি ফাউন্ডেশন গঠনা করা যাবে বলেও নীতিমালায় বলা হয়। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নীরিক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকও এই ইউনিট বা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম নজরদারি করবে। বাত্সরিক সিএসআরের অর্থ বরাদ্দের জন্য সিএসআর ইউনিট বা ফাউন্ডেশন থেকে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে প্রস্তাব পাঠাতে হবে। করপরবর্তী বার্ষিক নিট মুনাফা থেকে এই অর্থ জোগানের অনুমোদন দেবে পর্ষদ। এ ক্ষেত্রে পর্ষদের কোনো সদস্য, ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বা ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টিদের কারো সঙ্গে প্রতক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগ রয়েছে এমন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সিএসআর করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে ওই নীতিমালায়। এতে আরো বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনো বছরে করপরবর্তী মুনাফা না থাকলে নতুন সিএসআর কর্মসূচি হাতে নেয়া থেকে বিরত থাকতে পারবে। তবে আগের কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে ব্যয় কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে।
প্রসঙ্গত, আর্থিক খাতে কার্যরত ব্যাংকগুলোতে সিএসআরের ধারণাটি মূলধারায় আনয়নের জন্য ২০০৮ সালে গৃহীত বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সিএসআর কার্যক্রমে এগিয়ে আসে।