অনুমতি ছাড়াই আশ্রয়প্রার্থীদের আটকের প্রস্তাব অস্ট্রিয়ার

নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে হলে আদালতের অনুমতি ছাড়াই যেকোনো আশ্রয় প্রার্থীকে আটক করতে পারবে অস্ট্রিয়ার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী| দেশটির সরকার সোমবার এ সংক্রান্ত একটি আইন প্রণয়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন|খবর ডয়চেভেলের।

নতুন এই আইন প্রণীত হলে কর্তৃপক্ষ সন্দেহভাজন যে কাউকে আদালতের অনুমতি ছাড়াই আটক করার ক্ষমতা পাবে এবং আটক ব্যক্তিকে নিরাপত্তা শিবিরে রাখা হবে| অস্ট্রিয়াতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে আশ্রয় নিতে আসা ব্যক্তিদের ‘অভ্যর্থনা কেন্দ্রে’ রাখা হয়| প্রস্তাবিত এই আইনের অংশ হিসেবে দেশটির অভ্যর্থনা কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে ‘প্রস্থান কেন্দ্র’ করা হচ্ছে|

অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাস্টিয়ান কুত্স সাংবাদিকদের বলেন, আইন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ কাউকে আটক করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ করা বা এর পরিকল্পনা করা, ইত্যাদি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকতে হবে| তবে আটককৃত ব্যক্তির বিষয়টি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই পরিচালিত হবে বলে জানান তিনি| তবে প্রস্তাবিত এই আইন পাস হতে হলে দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হবে, যা অনেকটা অনিশ্চিত| কেননা দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেতে হলে ক্ষমতাসীনদের বিরোধী দলের ভোটের উপর নির্ভর করতে হবে|

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হ্যার্বার্ট কিকেল বলেন, শরণার্থীদের আটক করার বিষয়ে এ ধরনের আইন শুধু অস্ট্রিয়াই করছে না| ইউরোপের অন্যান্য দেশ বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড ও হাঙ্গেরিও এই ধরনের আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বলে জানান তিনি| গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির একজন সরকারি কর্মকর্তাকে তুরস্কের বংশোদ্ভূত এক আশ্রয় প্রার্থী ছুরিকাঘাত করে| আশ্রয় প্রার্থী এ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে ২০০৯ সালে তাকে বের করে দেওয়া হয়| পরে তিনি আবার অস্ট্রিয়াতে এসে আশ্রয় প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেন| এ ধরনের ঘটনার প্রেক্ষাপটেই শরণার্থী বিষয়ে নতুন করে ভাবছে অস্ট্রিয়া সরকার|

এদিকে, নতুন এই আইনের বিষয়ে তুরস্কের এই আশ্রয় প্রার্থীর বিষয়টি উল্লেখ করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হ্যার্বার্ট কিকেল বলেন, তারা মূলত অস্ট্রিয়াতে অভিবাসীদের আশ্রয়ের আবেদনের ব্যাপারে নিরুত্সাহিত করতে আইনটি করতে যাচ্ছেন|